


নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে এবার যুক্ত হচ্ছে রাজনগর। কোচবিহারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে ‘ট্যুরিজম ডেস্টিনেশন’। গড়ে তোলা হবে ‘রিলিজিয়াস ট্যুরিজম’। মঙ্গলবার প্রথমবার জেলা সফরে এসে এ কথা ঘোষণা করে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
কোচবিহার সফরে এসেই এদিন প্রথমে মুখ্যমন্ত্রী মদনমোহন মন্দিরে আসেন। ঠাকুর মদনমোহনকে পুজো দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কোচবিহারে প্রচুর কাজ হবে। জেলাশাসক কিছু পরিকল্পনা তৈরি করেছেন। বলেছি, টাকার জন্য কোনো সমস্যা হবে না। আগামী একবছরের মধ্যে কোচবিহারবাসীর যা যা স্বপ্ন আছে তা পূরণ হবে।
এরপর ধর্মীয় পর্যটনের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উত্তরবঙ্গ, তরাই, ডুয়ার্সে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এবার ওসব আমরা কাজে লাগাব। ডুয়ার্সের জঙ্গলের একশৃঙ্গ গন্ডার জগৎ বিখ্যাত। পর্যটক আনতে হবে। এখানে দু’ধরনের পর্যটক আসবে। একধরনের পর্যটক আসবে প্রকৃতিকে দেখার জন্য। আরএকটা শ্রেণির পর্যটক আসবে ধর্মীয় স্থানগুলি ঘুরে দেখতে। এখান ‘রিলিজিয়াস ট্যুরিজম ডেস্টিনেশন’ হতে পারে।
তিনদিন আগেই ঝটিকা সফরে কোচবিহারে এসেছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। মধুপুর সত্রে তিনি একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কয়েকদিন আগেই অসমের মুখ্যমন্ত্রী মধুপুর ঘুরে গিয়েছেন। আমি মদনমোহন মন্দির ঘুরে গেলাম। এখানে ধর্মীয় পর্যটন ক্ষেত্রে হবে। তারজন্য রেল, বিমান, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়ানো হবে।
এখানেই শেষ নয়। ধর্মীয় পর্যটকদের থাকার জন্য রাজ্য সরকার একাধিক কাজ হাতে নিতে চলেছে বলেও জানিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, পর্যটকরা এসে যে রাত্রিযাপন করবেন, তারজন্য ভালো ভালো গেস্ট হাউস, হোটেল বানাতে হবে। এই কাজগুলো আমাদেরই করতে হবে। তাহলে দেখবেন কোচবিহারকেও আমরা তরাই, ডুয়ার্স বা টাইগার হিলের মতো ট্যুরিজম ডেস্টিনেশন হিসাবে গড়ে তুলতে পারব।
চলতি বছরের ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, ৯ মে ২০২৭ সালের মধ্যে কোচবিহারবাসীর যা যা স্বপ্ন রয়েছে, তা পূরণ করার জন্য সময় দিতে হবে। ডিপিআর, পরিকল্পনা তৈরি করা, ধাপে ধাপে অর্থ বরাদ্দ সবই শুরু হয়ে গিয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রথম যে টেন্ডার বেরিয়েছে সেখানে বেশিরভাগ কাজই কোচবিহার জেলার জন্য আমরা রেখেছি।
পর্যটন শিল্প এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের সামাজিক প্রকল্পের দিক থেকেও কোচবিহার জেলা যে পিছিয়ে নেই, তা স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিশেষ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেমন জল জীবন মিশন, প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর, অন্নপূর্ণা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, পিএম কিষান নিধি, কৃষক বন্ধুর মতো কাজ আমরা একসঙ্গে করছি, আরও কাজ হবে। ফিরে যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে যান, আপনাদের সঙ্গে আমার রাস পূর্ণিমাতে ফের দেখা হবে। • কোচবিহার মদনমোহন মন্দিরে পুজো দিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী ও নিশীথ প্রামাণিক। - নিজস্ব চিত্র।