


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ। ফলে উত্তরবঙ্গে দিশাহীন হোটেল ব্যবসায়ীরা। দার্জিলিং পাহাড়ে থেকে শিলিগুড়ি, কোচবিহার থেকে আলিপুরদুয়ার সর্বত্র হোটেল ব্যবসায়ীরা কিচেনের দরজায় তালা দেওয়ার কথা ভাবছেন। এদিকে, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে কালো বাজারি শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ। শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির কিছু জায়গায় ‘কাটিং’ গ্যাস আকাশ ছোঁয়া দামে বিক্রি হচ্ছে। এমন অভিযোগে মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে একটি ডিলারের অফিসে বিক্ষোভ দেখান গ্রাহকরা। শিলিগুড়িতে বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে ছিল ভিড়।
উত্তরবঙ্গ তো বটেই রাজ্যের অন্যতম বড় শহর শিলিগুড়ি। শহরের পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ সর্বত্র ছড়িয়ে অসংখ্য হোটেল।
অধিকাংশেই রয়েছে রেস্তরাঁ। এরবাইরে বেশকিছু রেস্তরাঁ রয়েছে। সর্বত্র বাণিজ্যিক সিলিন্ডার দিয়ে রান্না করা হয়। তা বিক্রি বন্ধ হওয়ায় হোটেল মালিকারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। বৃহত্তর শিলিগুড়ি হোটেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ বলেন, হোটেলে সিলিন্ডার মজুত নেই। তাই বর্তমান সিলিন্ডার দিয়ে আর দুই-তিনদিন রান্না চলবে। এরপর সিলিন্ডারের অভাবে তা বন্ধ করে দিতে হবে। হোটেলের রান্না ঘরের মতো প্রচুর রেস্তরাঁর ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এদিকে, রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে বাসিন্দারা উদ্বেগে। এদিন শহরের পাকুড়তলা, সুভাষপল্লি, এনজেপি বিভিন্ন এলাকায় ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসে ছিল গ্রাহকদের জটলা। কয়েকজন বলেন, অনলাইনে বুকিং করতে পারছি না। তাই অফলাইনে গ্যাস বুকিং করতে এসেছি। তাঁদের অভিযোগ, গ্যাসের আকাল তৈরি হওয়ায় কাটিং গ্যাসের দামও অস্বাভাবিক। এনজেপি, হায়দরপাড়া, সুভাষপল্লি সহ বিভিন্ন এলাকায় চরা দামে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে।
রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে জলপাইগুড়িতেও শুরু হয়েছে কালোবাজারি। অভিযোগ, দাম বৃদ্ধির পর সিলিন্ডার পিছু অতিরিক্ত ৬০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদেই এদিন শহরে রান্নার গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান গ্রাহকরা। এখানেও বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না বলে অভিযোগ। গ্যাসের ডিস্ট্রিবিউটর জলপাইগুড়ি ডিস্ট্রিক্ট সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ কনজিউমার লিমিটেডের সম্পাদক প্রদীপ্ত বিশ্বাস অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, সিলিন্ডার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে না। বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারি চালু আছে।
বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বিক্রিতে টান পড়ায় আলিপুরদুয়ারে হোটেল রেস্তরাঁ ও মিষ্টি ব্যবসায়ীরা চিন্তিত। আলিপুরদুয়ার টাউন হোটেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিষ্ণু ভৌমিক বলেন, পুরোপুরিভাবে না হলেও বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বিক্রিতে টান পড়ার প্রভাব কিছুটা পড়তে শুরু করেছে। এনিয়েই উদ্বেগে রয়েছি।
কোচবিহারের হোটেল ব্যবসায়ীরাও উদ্বিগ্ন। কোচবিহার হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক প্রদীপ মৈত্র বলেন, সিলিন্ডার না পেলে হোটেলই বন্ধ হয়ে যাবে।