


নয়াদিল্লি, ১৫ অক্টোবর: ২০২৩ সালের কর্ণাটক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে বিতর্কের রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই ফের নতুন করে অস্বস্তিতে নির্বাচন কমিশন। ভোটগণনা ও পুনর্গণনার ভিডিও ফুটেজ চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু সেই ফুটেজের হদিস মেলেনি বলে আদালতকে জানিয়েছে কমিশন। এই ব্যাখ্যা ঘিরেই অসন্তোষ প্রকাশ করল শীর্ষ আদালত। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে যখন বারবার প্রশ্ন উঠছে, তখন গণনার গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও রেকর্ডিং না পাওয়ার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কর্নাটকের শ্রীনগেরি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল সংক্রান্ত মামলায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েই এবার জবাবদিহি চাইল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, ফুটেজ হারিয়ে যাওয়ার কথা বলে দায়িত্ব এড়ানো যাবে না।
বুধবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি চলছিল। সেই সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী আদালতকে জানান, ২০২৩ সালের মূল গণনার ভিডিয়ো রেকর্ডিং খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তা শুনেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা। তাঁদের প্রশ্ন, যে নির্বাচন পরিচালনা করাই কমিশনের প্রধান দায়িত্ব, সেই নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ নথি কী ভাবে হারিয়ে যেতে পারে? বিচারপতিদের মন্তব্য, 'নির্বাচন কমিশন কী ভাবে বলতে পারে যে তাদের কাছে নির্বাচনের নথি নেই? নির্বাচন পরিচালনা করাই আপনাদের পুরো উদ্দেশ্য। তার জন্য প্রয়োজনীয় নথি তো থাকতেই হবে। এখন সেগুলি খুঁজে দেখা হচ্ছে-এমন কথা বলার প্রশ্নই বা উঠছে কেন?'
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে শ্রীনগেরি কেন্দ্রে প্রথমে কংগ্রেস প্রার্থী টিডি রাজেগৌড়াকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই ফলাফল মেনে নিতে পারেননি বিজেপি প্রার্থী ডিএন জীবারাজ। ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি আইনি পথে এগোন। এরপর ওই কেন্দ্রে পুনর্গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়। পুনর্গণনার পর ২০১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী ঘোষণা করা হয় বিজেপি প্রার্থীকে। প্রথম গণনা এবং পরবর্তী পুনর্গণনার ফলাফলে এই পরিবর্তনই গোটা ঘটনাকে ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত করে। পুনর্গণনার প্রক্রিয়া কতটা সঠিক ছিল, তা খতিয়ে দেখার দাবি ওঠে। শেষ পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থীর জয়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কংগ্রেস প্রার্থী।