


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একরত্তি কন্যাসন্তানকে দালালের মাধ্যমে ভিন রাজ্যে বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল এক দম্পতিকে। পাশাপাশি চক্রের দালালকেও পাকড়াও করেছে পুলিশ। ধৃতরা হল শিশুকন্যার বাবা রবীন পাশোয়ান ও মা টোটোন সরকার। ওই দালালের নাম সোনালি সাহা ওরফে জাসমিন বিবি। মঙ্গলবার ধৃতদের বারাসত আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। পুলিশ জানিয়েছে, এর সঙ্গে আন্তঃরাজ্য শিশু বিক্রির চক্র যুক্ত রয়েছে।
বারাসত ২ নম্বর ব্লকের দাদপুর পঞ্চায়েতের বহিরা কালীবাড়ির বাসিন্দা রবীন পাশোয়ান পেশায় টোটোচালক। স্ত্রী টোটোন সরকার গৃহবধূ। তাদের পাঁচ বছরের একটি ছেলে আছে। সম্প্রতি তাদের কন্যাসন্তান হয়। অভাবের তাড়নাতেই মেয়েকে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেয় দম্পতি। তারা যোগাযোগ করে দত্তপুকুর থানার বামনগাছির বাসিন্দা সোনালির সঙ্গে। সোনালি তাদের পূর্ব পরিচিত। তার মাধ্যমে মেয়েকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দম্পতি। তদন্তকারীদের অনুমান, এর চেয়েও বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে শিশুকন্যাকে। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই শিশুকন্যাকে অন্ধ্রপ্রদেশে পাচার করা হয়েছে। দু’দিন আগে বিষয়টি জানতে পেরে বারাসত ২ নম্বর ব্লকের চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার রাজশংকর পান্ডে শাসন থানায় লিখিত অভিযোগে দায়ের করেন। তদন্তে নেমে মঙ্গলবার শিশুর বাবা, মা ও সোনালি সাহাকে গ্রেপ্তার করে শাসন থানার পুলিশ। বারাসত পুলিশ জেলার সুপারের নির্দেশে শাসন থানার একটি টিম অন্ধ্রপ্রদেশে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য রওনা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে বারাসত ২ ব্লকের সিডিপিও রাজশংকর পান্ডে বলেন, শিশু পাচার ও বিক্রির একটি চক্র রয়েছে। পুলিশ গোটা বিষয়টি তদন্ত করছে। বারাসত পুলিশ জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া বলেন, দম্পতির আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। শিশুটিকে কোথায় ও কার কাছে বিক্রি করা হয়েছে, তা জানা গিয়েছে। চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ যুক্ত কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে।