


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ দিনে অনেকেই নতুন কিছু কেনার পরিকল্পনা করেন। সোনাদানা থেকে স্থাবর সম্পত্তি, ওইদিনে কিনলে ফলপ্রদ হয় বলেই তাঁরা বিশ্বাস করেন। নতুন ফ্ল্যাট কেনা বা বাড়ি তৈরির পর অনেকে আবার অক্ষয় তৃতীয়ায় গৃহপ্রবেশ করেন। ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে দোকানের হালখাতাও করেন।
অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে নতুন কোনও সম্পত্তি কিনলে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। সেই কারণে ওইদিনে অনেকে সোনাদানা কেনেন। সোনার গয়না কেনাকে অনেকেই শুভ হিসেবে মনে করেন। কেউ কেউ আবার অক্ষয় তৃতীয়াকে বাঙালির ধনতেরস হিসেবেও অবিহিত করেন। অনেকে আবার ওই শুভ লগ্নে জমিজায়গা, ফ্ল্যাট কিনে থাকেন। কেউ কেউ গৃহপ্রবেশও করেন। তবে ধনতেরস, পয়লা বৈশাখের মতোই অক্ষয় তৃতীয়ার শুভক্ষণে সোনা কেনার প্রবণতা বাঁকুড়ায় দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাঁকুড়া শহরের বাসিন্দা অন্তরা গোস্বামী, শুভমিতা দাঁ বলেন, আমরা ধনতেরসে তেমন কিছু কিনি না। তবে প্রতিবছর অক্ষয় তৃতীয়ায় সোনার গয়না কেনার চেষ্টা করি। এবার সোনার দর বেশ চড়া। সোনার গয়নার ভরি কার্যত লাখ টাকা ছুঁয়ে ফেলেছে। ফলে সোনার কিছু কিনলেও এবার পরিমাণ কমাতে হবে।
উল্লেখ্য, সোনাকে অনেকেই ‘অন্ধের যষ্টি’র সঙ্গে তুলনা করে থাকেন। জরুরি প্রয়োজনে হলুদ ধাতুটি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, তা অনেকেই উপলব্ধি করেছেন। তাছাড়া সোনা কেনাকে অনেকে ভালো বিনিয়োগ হিসেবেও মনে করেন। সেই কারণে গয়নার পাশাপাশি সোনার বাট কিনে অনেকে বাড়িতে রেখে দেন। তাঁরা কম দামে সোনা কিনে রাখেন। ফলে সোনার বাজার চড়া থাকলে ওই ধরনের ক্রেতারা দোকানে পা রাখেন না। তবে বিয়ে সহ অন্যান্য অনুষ্ঠানে যৌতুক বা উপহার দেওয়ার জন্য সোনার গয়নার চাহিদা সারা বছরই থাকে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জেলাস্তরে সোনা মূলত মধ্যবিত্তরাই বেশি কেনে। তারা বিনিয়োগ হিসেবে সোনাকে বেশি কদর করে। ঝুঁকির বাজারে তারা সহজে টাকা ঢালতে চায় না। ফলে ওই ধরনের ক্রেতারা বিমুখ হলে ব্যবসায় মন্দা আসে। দেশ-বিদেশের শেয়ার বাজারের উত্থানপতন, অপরিশোধিত তেলের দাম ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সঙ্গে সোনার দাম ওতোপ্রতোভাবে যুক্ত। যুদ্ধ সহ অন্যান্য কারণে বাজার টালমাটাল হওয়ায় কিছুদিন আগে সোনার দাম চড়ছিল। ফের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় পরেও সোনা মধ্যবিত্তের নাগালে এসেছে, তা বলা যাবে না। ফলে সোনা কেনার হার এবার বৃদ্ধি পাবে কিনা তা নিয়ে অনেকেই সংশয়ে রয়েছে। অক্ষয় তৃতীয়া থেকে বাজার চাঙ্গা হবে বলে বাঁকুড়ার স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বাঁধছেন। • নিজস্ব চিত্র