


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এবার বোরো মরশুমে রেকর্ড পরিমাণ ধান ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কৃষিদপ্তরের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, জেলায় এবার ১০ লক্ষ ২৫ হাজার ৫২৪ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হতে পারে। এবার এক লক্ষ ৭৩ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। বর্ধমান-১ এবং গলসি -১ ব্লকে সবচেয়ে বেশি ধান চাষ হয়েছে। এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি প্রতিকূল রয়েছে। জলের অভাব তেমন দেখা যায়নি। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হওয়ায় ধান চাষের পক্ষে ভালোই হয়েছে। কিন্তু, শেষ মুহূর্তে যাতে কোনও ধরনের অঘটন না হয় তার জন্য সোমবার কৃষিদপ্তর বৈঠকে বসে। ধানের শিষ চলে এসেছে। এই সময় জলের ঘাটতি দেখা দিলে উৎপাদন ধাক্কা খেতে পারে। এই পরিস্থিতি যাতে না হয়, তার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে কৃষিদপ্তর। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, কোন ব্লকে ধান জমির কী অবস্থা রয়েছে, তা নিয়ে একটি পর্যালোচনামূলক বৈঠক করা হয়েছে। জেলার পাঁচটি ব্লক সেমিক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে। বাকি ব্লকগুলির অবস্থা ঠিকই রয়েছে। কোথাও জলের অভাব দেখা দিলে যাতে তড়িঘড়ি সাবমার্সিবল বা ডিপটিউবওয়েল বসানোর অনুমতি দেওয়া যায়, তা আলোচনা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরের সঙ্গেও কথা হয়েছে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ধান জমিতে পোকার আক্রমণ তেমনভাবে হয়নি। জলের অভাব না থাকায় ধান গাছ ভালোভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় সেই কারণে এবার অনেক বেশি ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু, বিগত বেশ কয়েক বছরে দেখা গিয়েছে শেষ মুহূর্তে জলের অভাব দেখা দেওয়ার জন্য ধানের ফলন কমে গিয়েছিল। গলসির চাষি অনুজ পাত্র বলেন, সার এবং কীটনাশকের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছে। ধানের ফলন বেশি হলে চিন্তা থাকবে না। কিন্তু, কোনও কারণে ফলন কমে গেলে চাষিদের বড়সড় ধাক্কা খেতে হবে। ডিভিসির ছাড়া জলে এখনও তেমন কোনও সমস্যা হয়নি। আগামী কয়েকটা দিনের উপর ফলন অনেকটাই নির্ভর করবে। ওই সময় জল পাওয়া গেলে কোনও সমস্যা হবে না। কিন্তু, জলের ঘাটতি দেখা দিলে ফলন অর্ধেক হয়ে যেতে পারে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে খবর, আউশগ্রাম বা ভাতার এলাকায় ধান চাষ অনেকটাই সাবমার্সিবলের উপর নির্ভরশীল। কোনও চাষি নতুন করে ডিপটিউবওয়েল বসানোর জন্য অনুমতি চাইলে তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন থাকলে তড়িঘড়ি তা বসানোর বন্দোবস্ত করা হবে। ধান ওঠার পর তা চাষিরা যাতে বিক্রি করতে পারেন, তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ক্রয় কেন্দ্রগুলিতে চাষিরা সরাসরি গিয়ে ধান বিক্রি করতে পারবেন।