


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: মন্দির সংস্কারের জন্য কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল রাজ্য সরকার। সেই টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠল মন্দির কমিটির সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষর বিরুদ্ধে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুরের রামনগরে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে দীঘা মোহনা কোস্টাল থানার পুলিশ। থানা থেকে বের করার সময় তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে মারেন বেশ কিছু মানুষ।
দীঘা মেরিন ড্রাইভের রাস্তায় শঙ্করপুরের আগে ন্যায়েকালী মন্দির। বহু দূর দূর থেকে মানুষ এখানে পুজো দিতে আসেন। এই মন্দির সংস্কার কাজে বরাদ্দ সরকারি অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠল মন্দির কমিটির সম্পাদক সুজিত কর এবং কোষাধ্যক্ষ সুবল সাউয়ের বিরুদ্ধে। সুজিত রামনগর ১ নম্বর ব্লকের অধীন তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পদিমা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। বিজেপির বুথ সভাপতি সঞ্জীব দে এনিয়ে দীঘা মোহনা কোস্টাল থানায় এফআইআর করেছেন। তার ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার ধৃতদের কাঁথি এসিজেএম কোর্টে পেশ করা হবে। এদিন থানা থেকে দু’জনকে বের করার সময় সাধারণ মানুষ ডিম ছুঁড়ে মারেন।
জানা গিয়েছে, বিগত তৃণমূল সরকার ন্যায়েকালী মন্দিরের উন্নয়ন কাজে প্রায় ১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। এই অর্থে মন্দির সংস্কার, স্টল নির্মাণ, বাগান, পার্ক, পুকুর সংস্কার সহ বেশ কিছু কাজ হয়। প্রায় ১৩ কোটি টাকার কাজের হিসাব মিললেও বাকি চার কোটি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত। খরচের হিসাব পেশের জন্য ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের গত কয়েকদিন থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।
বুধবারও ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের নিয়ে সালিশি ছিল। এরপর বিজেপির লোকজন সেই সালিশি এড়িয়ে সোজা থানায় হাজির হন। ট্রাস্টের সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষকে থানায় ডেকে আনা হয়। সেখানেই তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়। সেইসঙ্গে দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।