


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শুক্রবার বিকালে হাওড়া ময়দান যেন পরিণত হয়েছিল এক বিরাট উৎসবে! নির্বাচনের আগেই এ যেন প্রাক বিজয়োল্লাস! মানুষের ভিড় উপচে পড়া হাওড়া ময়দান মুহূর্তে মনে করিয়ে দিল ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের ছবি। তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে যেমন তিল ধারণের জায়গা থাকে না, তেমনই অভূতপূর্ব জনসমাগমের সাক্ষী থাকল গঙ্গার এপারের শহরের প্রাণকেন্দ্র। উপলক্ষ্য, জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেগা নির্বাচনি সভা। ধর্মতলার শহিদ দিবসের মঞ্চের আদলে তৈরি বিশাল র্যাম্পযুক্ত সভামঞ্চই স্পষ্ট করে দিল, এ শুধু সভা নয়, ভোটের আগে জোড়াফুল শিবিরের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে তুলে দেওয়ার আঙিনা।
এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন মধ্য হাওড়ার প্রার্থী অরূপ রায়, উত্তর হাওড়ার গৌতম চৌধুরী, দক্ষিণ হাওড়ার নন্দিতা চৌধুরী এবং শিবপুরের প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়। মঞ্চে দাঁড়িয়ে আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ঝাঁঝালো ভাষণে বিরোধীদের কড়া আক্রমণ করেন মমতা। পাশাপাশি, হাওড়ার উন্নয়নে একাধিক বড়ো প্রতিশ্রুতি দেন তৃণমূল নেত্রী। শহরের দীর্ঘদিনের নিকাশি সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, ‘হাওড়ায় আমরা নতুন করে ড্রেজিং প্রোগ্রাম করছি। এটা চুক্তিও হয়ে গিয়েছে। ড্রেনেজের যে সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে, আগামীতে সেটা মিটে যাবে।’ পাশাপাশি, অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী, বিশেষ করে হোম ডেলিভারি সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প আনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। বিনিয়োগের প্রশ্নে বিরোধীদের সমালোচনা করে মমতা দাবি করেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ এখন শিল্পের অন্যতম গন্তব্য। হাওড়া থেকে হুগলি হাইরোড ধরে গেলেই তার প্রমাণ মিলবে।’ একই সঙ্গে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন হাওড়া স্টেশন সহ সাঁতরাগাছি, বেলুড় ও দক্ষিণেশ্বর স্টেশনের আধুনিকীকরণে তাঁর ভূমিকার কথা তুলে ধরেন মমতা।
এদিনের সভায়ও যথারীতি মহিলাদের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। লালপাড়, সাদা শাড়ি পরিহিত মহিলা ভোটারদের সম্মিলিতভাবে শঙ্খবাদন ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে হাওড়া শহরের ব্যস্ততম এলাকাটি। জনসমাগম এতটাই ছিল যে ময়দান ছাড়িয়ে ভিড় ছড়িয়ে পড়ে বঙ্কিম সেতু থেকে জি টি রোড পর্যন্ত। জননেত্রীকে চোখে না দেখতে পেলেও তাঁর বক্তব্য শোনার আকাঙ্ক্ষায় সভামঞ্চ থেকে অনেক দূরেও মানুষ ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন। জেলার ১৬টি আসনের সবক’টিতে তৃণমূলের জয়ের বার্তা এদিনের জনজোয়ারে স্পষ্ট হয়ে গেল বলে দাবি জোড়াফুল শিবিরের।