


সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম ফের তোলার জন্য ফর্ম জমা দিতে শনিবার সকাল থেকেই জেলাশাসকের অফিসের সামনে ভিড় জমান জেলার বহু সাধারণ ভোটার। যদিও শনি ও রবিবার সরকারি ছুটি থাকায় অধিকাংশ দফতর বন্ধ ছিল। ফলে নদীয়া জেলার দূরদূরান্ত থেকে আসা বহু মানুষ কার্যত হতাশ হয়ে ফিরে যান। এতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করেন উপস্থিত ভোটাররা।
গত কয়েকদিন ধরে বেশিরভাগ মানুষ সকাল সকাল নথিপত্র নিয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, যাতে দ্রুত ফর্ম জমা করতে পারেন। কিন্তু শনিবার অফিস বন্ধ থাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর হতাশ হতে হয় বহু মানুষকে। যদিও অনেকেরই দাবি শনিবার বেলা ১১টা নাগাদ কিছু সময়ের জন্য কয়েকজনের ফর্ম জমা নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই জমা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। এজন্য ক্ষোভ আরও বেড়ে গিয়েছে সবার মধ্যে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ফর্ম জমা দিতে না পেরে ফিরে যান সবাই। যদিও আগামী সোমবার থেকে স্থানীয় ব্লকগুলিতেই ফর্ম জমা দেওয়া যাবে শুনে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন অনেকেই।
উপস্থিত অধিকাংশ ভোটারের অভিযোগ, নথিপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও অনেকের নাম আচমকাই ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভোট দিয়ে আসছেন, তবুও এবার তালিকায় নাম না থাকায় আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তাঁরা। তার উপর আজ অফিসে এসেও কাজ হয়নি। দূরে বাড়ি হওয়ায় হয়রানির মধ্যেও পড়ছেন সকলে। যদিও সোমবার থেকে নিজের, নিজের ব্লকেও ফর্ম জমা করা যাবে। এটাই একটু যা সুবিধা হয়েছে। ফলে এত দূরে আর আসতে হবে না।
চাকদহ থেকে আসা প্রদীপ সাহার কথায়, ২০০২ সালে আমি চাকরি সূত্রে বাইরের রাজ্যে থাকতাম। সে সময় তাই ভোটার তালিকায় আমার নাম ছিল না। এবার শুনানিতে ডাক পড়লে আমি বাবার ১৯৭১ সালের ব্যাংকের পাসবই, আমার ১৯৮৫ সালের মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা করেছিলাম। এরপরেও আমার নাম কেটে দিয়েছে। সব কাগজ গুছিয়ে শনিবারে এসে দেখি অফিস বন্ধ।
বাদকুল্লা থেকে আসা মিলন বিশ্বাস বলেন, ২০০২ সালে জন্ডিস ও অন্য শারীরিক কারণে কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম। তাই ভোটে নাম তুলতে পারিনি। শুনানির চিঠি বাড়ি এলে আমি সেই সময়ের হাসপাতালের কাগজ জোগাড় করে অফিসারদের দেখিয়েছিলাম, তারপরেও নাম কেটে দিয়েছে। আজ পুনরায় নাম তোলার আবেদন করতে এসে দেখি অফিস বন্ধ হয়ে আছে। -নিজস্ব চিত্র