


কিংস্টন: ‘দ্য জেনারেল’ রিনাস মিশেলের শিষ্য। ফুটবলমহল তাঁকে চেনে ‘দ্য লিটল জেনারেল’ নামে। তিনি আর কেউ নন, কুরাসাওয়ের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা হেড কোচ ডিক অ্যাডভোকাট। তাঁর মগজাস্ত্রেই মাত্র দেড় লক্ষ জনবসতির ক্যারিবিয়ান দেশটি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করেছে। সেই সুবাদে ৭৮ বছর বয়সি অ্যাডভোকাটও রেকর্ড গড়তে চলেছেন। সবচেয়ে বেশি বয়সি হিসেবে বিশ্বকাপে কোচিং করানোর!
অবশ্য পারিবারিক সমস্যার কারণে কুরাসাওয়ের ইতিহাস গড়ার মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারেননি অ্যাডভোকাট। কিন্তু নেদারল্যান্ডসে নিজের বাড়িতে টিভির পর্দা থেকে চোখ সরাননি তিনি। আর ছেলেরা ইতিহাস গড়তেই আনন্দ-উল্লাসে বাড়ি মাথায় তোলেন অ্যাডভোকাট। কিংবদন্তি কোচের কথায়, ‘বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত। ইচ্ছা আর বুকে আগুন থাকলে দেড় লক্ষ জনবসতির দেশ যে বিশ্বকাপে খেলতে পারে, তা আমরা দেখিয়ে দিয়েছি। কুরাসাওয়ের ইতিহাসে এই ঘটনা সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে।’ একটু থেমে তাঁর সংযোজন, ‘জামাইকার বিরুদ্ধে আমার মাঠে না থাকাটা খুবই দুঃখজনক। ছেলেদের ছেড়ে আসতে মন চায়নি। কিন্তু পরিবারিক কারণে বাড়ি ফিরতেই হল। টিভিতে এমন রুদ্ধশ্বাস খেলা দেখা খুবই কষ্টকর। ম্যাচটা পেন্ডুলামের মতো দুলছিল। জামাইকার ফুটবলারদের শট একাধিকবার আমাদের গোলপোস্ট, ক্রসবারে প্রতিহত হল। এমনকী, ওরা পেনাল্টিও পেয়েছিল। উপরওয়ালার আশীর্বাদে ভারের সাহায্য নিয়ে শেষ পর্যন্ত রেফারি সিদ্ধান্ত বদল করেন। সেই সময় তো হৃৎপিণ্ড গলায় উঠে গিয়েছিল। যাই হোক, ছেলেদের জন্য আমি গর্বিত। কুরাসাওবাসীদেরও অভিনন্দন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখছিলাম, পুরো দেশ উত্সবে মেতেছে।’
ডিক অ্যাডভোকাট কিংবদন্তি কোচ। ১৯৯৪ সালে তিনি নেদারল্যান্ডসকে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে তুলেছিলেন। ২০০৪ সালে তাঁর কোচিংয়ে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে খেলে ডাচরা। এছাড়া তিনি বেলজিয়াম, সার্বিয়া, রাশিয়ারও হেড কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্লাব ফুটবলে তাঁর প্রশিক্ষণে ইউরোপা লিগ জিতেছে সেন্ট পিটার্সবার্গ। কিন্তু তিনি থামতে জানেন না। ৭৮ বছর বয়সে কুরাসাওয়ের কোচ হয়ে রূপকথা লিখলেন ডার্ক নিকোলাস ডিক অ্যাডভোকাট।