


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কোম্পানি খুলে কারেন্ট অ্যাকাউন্টে সাইবার জালিয়াতির টাকা জমা করা হত। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছিল। হাওড়ায় শিবপুর থানা এলাকার এক ব্যক্তি বিনিয়োগের টোপ গিলে প্রতারিত হন। সেই ঘটনার তদন্তে নেমে কোম্পানির ডিরেক্টর দেখিয়ে যার নামে কারেন্ট অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছিল তাকে গ্রেপ্তার করল হাওড়া সিটি পুলিশের সাইবার ক্রাইম থানা। পুলিশ জানিয়েছে, শুভজিৎ কাশীনাথ দে নামে ওই অভিযুক্তকে ধরা হয়েছে শিবপুর এলাকার একটি আবাসন থেকে। পুলিশের দাবি, তার সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সাইবার জালিয়াতি চক্রের যোগ মিলেছে।
হাওড়া সিটি পুলিশ সূত্রের খবর, ডিসেম্বর মাসে সাইবার ক্রাইম থানায় এক ব্যক্তি এসে অভিযোগ করেন যে বিনিয়োগের টোপ গিলে তিনি ১৬ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন। অভিযোগপত্রে তিনি আরও জানান, টেলিগ্রামে একটি মেসেজ আসে। তাতে লেখা ছিল শেয়ারে বিনিয়োগ করলে বিপুল পরিমাণ লাভ মিলবে। তাতে প্রলোভিত হয়ে সেখানে থাকা নম্বরে যোগাযোগ করেন ওই ব্যক্তি। এরপর হোয়াটসঅ্যাপে এক যুবক তাঁর সঙ্গে কথা বলে। কোন কোম্পানির শেয়ারের মূল্য কত, তা পাঠানো হয় তাঁকে। তাতে আশ্বস্ত হয়ে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তিনি ১৬ লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগ করে বসেন। রিটার্নের কথায় প্রথমে আরও টাকা বিনিয়োগ করতে বলা হয়। নতুন টাকা বিনিয়োগ না-করায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগই বন্ধ করে দেয় অভিযুক্তরা। তারপরই তিনি পুলিশে অভিযোগ জানান।
কোন কোন অ্যাকাউেন্টে টাকা গিয়েছে তার নথি বের করা হয়। তদন্তকারীরা দেখেন, শিবপুর এলাকায় খোলা একটি কোম্পানির কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ওই টাকা ঢুকেছে। অ্যাকাউন্টটি খোলা হয়েছে একটি বেসরকারি ব্যাংকে। সেখান থেকে ওই কোম্পানির তথ্য সংগ্রহ করা হয়। দেখা যায়, এই কোম্পানির ডিরেক্টর হিসেবে রয়েছে শুভজিৎ কাশীনাথ দে নামে একজন। এনসিআরপি পোর্টাল ঘেঁটে দেখা যায়, এই কোম্পানিতে নিয়মিত টাকা আসছে ভিন রাজ্য থেকেও। এখানে টাকা ‘পার্ক’ করা থাকছে। কিছুদিন পর তা আবার বেরিয়েও যাচ্ছে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন যে, অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সাইবার জালিয়াত চক্রের যোগ রয়েছে। এই কাগুজে কোম্পানিটির ব্যবহার শুধু টাকা ঘোরাতেই। তারপরই শুভজিৎকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় পুলিশের কাছে সে-কথা কবুলও করেছে সে।
মঙ্গলবার ধৃতকে হাওড়া আদালতে তোলা হয়। সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক বলেন, এই চক্রের অন্যদের ধরতে অভিযুক্তকে জেরা করা হবে। ওইসঙ্গে টাকা তোলার জন্য ব্যবহৃত এটিএমগুলিকেও চিহ্নিত করা দরকার। ধৃতকে সাতদিনের পুলিশি হেপাজতে পাঠানো হয়েছে।