


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পরে ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করা হল আজ। বাজেট পেশ করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। আর এই বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের জন্য এল ব়ড় সুখবর! বাড়ল ডিএ এর হার। সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ শতাংশ মহার্ঘভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন। এর ফলে রাজ্যে মোট ডিএ-র পরিমাণ ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ৩৮ শতাংশে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, আসন্ন দুর্গাপূজার আগেই এই বর্ধিত ডিএ লাগু হতে চলেছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকেই লাগু হবে ডিএ এর নতুন হার। কর্মচারীরা নভেম্বর মাসের শুরুতেই বর্ধিত মহার্ঘভাতার আর্থিক সুবিধা হাতে পাবেন। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মহার্ঘভাতা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক টানাপোড়েন চলেছিল। কেন্দ্রের সমতুল হারে ডিএ দেওয়ার দাবিতে বছরের পর বছর ধরে লাগাতার আন্দোলন চালিয়েছিলেন একাধিক কর্মচারী সংগঠন। তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ধাপে ধাপে ডিএ বাড়িয়ে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত করলেও, কেন্দ্রীয় সরকারের হারের সঙ্গে এ রাজ্যের ফারাক ছিল আকাশছোঁয়া। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ৬০ শতাংশ হারে মহার্ঘভাতা পাচ্ছেন। পূর্বতন জমানায় কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ডিএ-র ফারাক যেখানে ৪২ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছিল, নতুন সরকারের এই ২০ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির পর সেই ব্যবধান এক ধাক্কায় কমে ২২ শতাংশে নেমে এল। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতায় আসার পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটেই সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ-র একাংশ মিটিয়ে দিয়ে এক বড়সড় মাস্টারস্ট্রোক দিল নতুন শাসকদল। দীর্ঘদিন ধরে চলা ডিএ আন্দোলনের আবহে এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বড়সড় আর্থিক স্বস্তি দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যে একাধিক আটকে থাকা শূন্যপদ নিয়েও বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী, তিনি বলেন, ‘রাজ্য সরকারের ১ লক্ষ শূন্য পদে খুব শীঘ্রই নিয়োগ শুরু হবে। মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ পদ সংরক্ষিত থাকবে। এছাড়াও ১০ শতাংশ অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পুলিশ বিভাগের জন্য শূন্যপদের ২০ হাজার বরাদ্দ থাকবে। ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।’
প্রত্যেক চাকরীপ্রার্থী যাঁরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁদের জন্যও বিশেষ ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী। এই নিয়ে তিনি বলেন, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় বিনামূল্যে কোচিং সেন্টার গড়ে তোলা হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা বিনা খরচে প্রস্তুতির সুযোগ পায়। শিক্ষার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে আদর্শ বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য ২১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংস্কৃত শিক্ষা ও ভাষার প্রসারে ৫০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে, যার একটি বড় অংশ সংস্কৃত কলেজগুলির উন্নয়নে কাজে লাগবে। উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় দুটি নতুন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।