


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: স্বাধীন ভারতে স্লোগান ‘দিল্লি চলো’! এবার ভোট চুরির বিরুদ্ধে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে। মহালয়ায় মেগা আন্দোলন ‘যন্তরমন্তর ২.০’। ককরোচদের এই আহ্বান কাঁপিয়ে দিয়েছে দিল্লি প্রশাসন তথা মোদি সরকারের আগাপাশতলা। তাই শুক্রবার থেকেই ট্রেন বাতিল, ‘লাইফ লাইন’ মেট্রোর শাটার ডাউন, প্রত্যেক মোড় হয়েছে ব্লকিং পয়েন্ট, গণপরিবহণে পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ! এমনকি বিভিন্ন আবাসন এবং কলোনিতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের সাফ বার্তা, শনিবার বাসিন্দারা কেউ বাইরে বেরোবেন না। নজিরবিহীনভাবে দিল্লির রাজপথে টহল দিচ্ছে আধাসেনা। সর্বত্র ছড়িয়ে চাপা টেনশন। রাজধানী দিল্লিতে যেন অঘোষিত কার্ফু। সবমিলিয়ে স্পষ্ট, আজ, শনিবার অবরুদ্ধ হতে চলেছে শহর। আর ককরোচ জনতা পার্টির পালটা চ্যালেঞ্জ, ‘শনিবার যন্তরমন্তরে পৌঁছাতে যদি কোনোভাবে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা নিশ্চিত করে তবেই জেন জি ঘরে ফিরবে। শুধুই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আর আটকে থাকা হবে না।’
পুলিশের নির্দেশিকা মেনে শুক্রবার রাত ৯টা থেকেই ৫৭টি স্টেশন বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লি মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। পরে তা কমিয়ে ৪৫ করা হয়। নর্দার্ন রেল জানিয়েছে, শনিবার ভোর ৪টে থেকে বেলা ২টো পর্যন্ত যেসব মেল, এক্সপ্রেস ট্রেন নিউদিল্লি এবং হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা, তার প্রতিটিই বাতিল থাকবে। মোট ৪৬টি। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লিগামী শিয়ালদহ এবং হাওড়া রাজধানী এক্সপ্রেসও। বিক্ষোভ-আন্দোলনের ‘আতঙ্কে’ এভাবে দূরপাল্লার ট্রেন বাতিলের সিদ্ধান্তও একপ্রকার বেনজির। সেন্ট্রাল দিল্লির বিস্তীর্ণ অংশ শুক্রবার রাত থেকেই
মুড়ে ফেলা হয়েছে গার্ডরেলের ব্যারিকেডে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। বন্ধ হচ্ছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। ইতিমধ্যেই অবশ্য প্রায় সমস্ত গণপরিবহণ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছে মামলা। উদ্বেগও প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশের সর্বোচ্চ আদালত কেন্দ্রকে সাফ জানিয়েছে, ১০ অক্টোবরের বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য যাতে ট্রেন এবং মেট্রো সম্পূর্ণ বন্ধ করে না দেওয়া হয়, তা সুনিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে পরিকল্পিতভাবে গণপরিবহণ ব্যবস্থা কিছু চালু রাখা যায় কি না, সেটাও দেখতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। সামগ্রিক বিষয় নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যাতেই দফায় দফায় বৈঠক করেছেন দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা। তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ প্রধানত দুটো—আদালত অবমাননার মুখে যাতে না পড়তে হয়, তা নিশ্চিত করা। আর শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহণ ব্যবস্থা কীভাবে চালু রাখা যায়, সেই উপায় খুঁজে বের করা। দুটোতেই হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ।
আজ শুধুমাত্র ককরোচ বা জেন জি নয়। একই দাবিতে পথে নামছে বাম ছাত্র-যুব সংগঠনগুলিও। রাস্তায় থাকবেন দলের শীর্ষ নেতারাও। এদিন দিল্লি পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে, ‘কোনো বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। কারণ নিয়ম মেনে আবেদনই করা হয়নি। তাই শনিবার কোনোরকম জমায়েত নিষিদ্ধ।’ বলা বাহুল্য, এতে দমছে না ‘ককরোচ’রা। বরং তাদের পালটা হুংকার, ‘পুলিশের অনুমতি কে চেয়েছে? আন্দোলন হো কর হি রহেগা।’ শুক্রবার দেখা গিয়েছে, যন্তরমন্তর সংলগ্ন অশোকা রোড, সংসদ মার্গ, জনপথের মতো এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। রুট মার্চ করছে র্যাফ, আধাসেনা। যান্ত্রিক কণ্ঠে বারবার ঘোষণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিএনএসের ১৬৩ ধারা কার্যকর রয়েছে। জমায়েত চলবে না।