


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: ঈশিতা মল্লিককে খুনের ব্লু-প্রিন্ট বানিয়েই থেমে থাকেনি প্রাক্তন প্রেমিক দেশরাজ সিং। সমাজমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ছবি সহ তার ইঙ্গিতও দিয়েছিল! চলতি আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে কোমরে পিস্তল গুঁজে ইনস্টাগ্রামে ‘স্টেটাস’ দিয়েছিল দেশরাজ। তাতে স্পষ্ট ছিল খুনের হুমকি—‘ডেড বডি সুন’। ওই হুমকি যে ঈশিতার জন্যই, তা বলছেন তদন্তকারীরা। পুলিস বলছে, যে সময়ে এই ‘স্টেটাস’ দেওয়া হয়েছিল, সেই পর্বে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইনস্টাগ্রাম—তিন প্ল্যাটফর্মেই দেশরাজকে ‘ব্লক’ করে রেখেছিলেন ঈশিতা। ইনস্টাগ্রামে ওই পোস্ট ২৭ জনকে শেয়ার করেছিল দেশরাজ। তার মধ্যে ছিলেন ঈশিতার কয়েকজন বন্ধুও। কোমরে পিস্তল গোঁজার ছবি সহ স্টেটাস ঈশিতা যাতে দেখতে পায়, সে ব্যবস্থা করার জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়েছিল উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ওই যুবক। কোমরে পিস্তল গোঁজা ছবিটি ঈশিতা দেখেছিলেন। তদন্তকারীরা বলছেন, দেওরিয়া জেলার মাইল থানার কাইরাউতা গ্রামের স্থানীয় বন্ধু নীতিন প্রতাপ সিং কাঁচরাপাড়া আসার পরই নাইন এমএম পিস্তল সহ ওই ছবি ব্যবহার করেছিল দেশরাজ। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এই পিস্তলটিই উত্তরপ্রদেশ থেকে নিয়ে এসেছিল নীতিন। গত ২৫ আগস্ট কৃষ্ণনগর পালপাড়ার বাড়িতে ঢুকে ঈশিতাকে সম্ভবত এই পিস্তল থেকেই গুলি চালিয়ে দেশরাজ খুন করেছিল বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। এই আবর্তেই শুক্রবার ঈশিতার পারলৌকিক কাজকর্ম কৃষ্ণনগরের বাড়িতে সম্পন্ন হয়েছে।
খুনের ঘটনার তদন্তে গত ২৬ আগস্ট থেকে যোগীরাজ্যে রয়েছে কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার তদন্তকারী টিম। দেওরিয়ায় দেশরাজের বাড়ি যেখানে, সেখানকার মাইল থানার পুলিস কৃষ্ণনগরের তদন্তকারীদের সাহায্য করছে ঠিকই। কিন্তু স্থানীয় লোকজনের তরফে কোনও সাড়া মিলছে না। বাংলার পুলিসের সামনে কেউ মুখ খুলতে চাইছে না। কেন? তদন্তকারীরা বলছেন, রাজপুত ঠাকুর সম্প্রদায় প্রভাবিত ওই এলাকায় দেশরাজের পরিবার অত্যন্ত প্রভাবশালী। পরিবারের বেশ কয়েকজন যেমন পুলিসে কর্মরত, তেমনই কয়েকজন নিকটাত্মীয় দেওরিয়া জেলায় ‘বাহুবলী’ বলে পরিচিত। দেশরাজের দুই জামাইবাবু দঙ্গল ও মঙ্গল সিংয়ের পরিচয়—তারা ‘গ্যাংস্টার’। খুন করে পালিয়ে থাকা পর্বে এদের ‘ভরপুর’ সাহায্য পাচ্ছে ঈশিতার প্রাক্তন প্রেমিক। গ্যাংস্টার জিজাজিদের ভরসাতেই কৃষ্ণনগর পুলিস টিমের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে সে। দেশরাজের সঙ্গে রয়েছে তার বন্ধু নীতিন প্রতাপ সিংও। তবে যে কারণে কাইরাউতা ও তার আশপাশের গ্রামের মানুষের মুখ বন্ধ, তা হল ‘মুখিয়া’ সরজো প্রতাপ সিং। যাঁর দাপটে ‘বাঘে গোরুতে এক ঘাটে জল খায়’ বলে এলাকায় চর্চা রয়েছে। এই সরজো সিং সম্পর্কে দেশরাজের নিজের দাদু। নাতিকে বাঁচাতে আসরে নেমে পড়েছে তাঁর ‘পালোয়ান বাহিনী’। সূত্রের খবর, কাইরাউতা গ্রামে দেশরাজের বন্ধু পিস্তল সরবরাহকারী নীতিন প্রতাপের বাড়িতে বৃহস্পতিবার রাতে গিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। কথা বলেছিলেন নীতিনের মা-বাবার সঙ্গে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, তাঁরা বেরিয়ে যাওয়া মাত্রই দঙ্গল-মঙ্গলের অপর এক শ্যালক ‘হিস্ট্রি শিটার’ পঙ্কজ সিং দলবল নিয়ে বাড়ি ঢুকে হুমকি দিয়ে এসেছে—‘মুখ খুললে পরিণতি ভয়াবহ হবে।’
সেই বিতর্কিত ইনস্টাগ্রাম স্টেটাস