


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া ও সংবাদদাতা, আরামবাগ: বাঁকুড়া ও আরামবাগে তৃণমূল নেতাদের স্ক্রুটিনিতে একের পর এক ভূতুড়ে ভোটার ধরা পড়েছে। কেউ ১০ বছর আগে মারা গিয়েছে, কারও আবার এলাকায় অস্তিত্বই নেই। কেউ ভিনরাজ্যের বাসিন্দা। ঘটনায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
বুধবার বাঁকুড়া-২ ব্লক তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে মানকানালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ভোটার তালিকা ধরে ধরে স্ক্রুটিনি করা হয়। ওই অঞ্চলের কেন্দবনী ও লাদনা গ্রামে তৃণমূল নেতারা যান। একটি গ্রামে ২৮টি ও অন্য গ্রামে ১০টি এমন নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে, যাদের অনেকদিন আগেই মৃত্যু হয়েছে। বাঁকুড়া-২ ব্লক তৃণমূলের সভাপতি বিধান সিংহ বলেন, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪০-৪২টি এমন নাম পাওয়া গিয়েছে। পাঁচ-দশ বছর আগে মারা গিয়েছেন, এমন লোকজনের নামও ভোটার তালিকায় রয়েছে। তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়নি। এর পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেই আমাদের মনে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাব। উল্লেখ্য, বাঁকুড়া-২ ব্লকেরই জুনবেদিয়া এলাকায় তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়া নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খোদ বাঁকুড়ার জেলাশাসক সিয়াদ এন সদর মহকুমা শাসকের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। ঘটনায় সরকারি কর্মীদের ভুল রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জেলাশাসক স্বীকার করে নিয়েছেন। তারপর ফের ওই ব্লকেই প্রচুর ভূতুরে ভোটার বের হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এদিনই সকালে আরামবাগ ব্লকের আরান্ডি ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সাতমাসা এলাকায় ভোটার তালিকা মেলানোর সময় ভুয়ো ভোটার ধরা পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা চেয়ারম্যান স্বপন নন্দীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আরামবাগ ব্লকের সাতমাসা গ্রামে যায়। সেখানে তারা ইলেকশন কমিশনের ভোটার তালিকার সঙ্গে গ্রামবাসীদের ভোটার কার্ড মিলিয়ে দেখতে শুরু করেন। তাঁরা দেখতে পান, গ্রামবাসীর চেনা-জানা মানুষের তালিকায় হঠাৎই ঢুকে পড়েছে অচেনা নাম। কেউ ‘আগরওয়াল’, কেউ ‘গগৈ’, কেউ ‘বরুয়া’ বা ’দেব’— এই পদবীর কোনও মানুষই এই গ্রামে বসবাস করে না। এরপরই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এই প্রসঙ্গে স্বপনবাবু বলেন, ওই গ্রামের ২৭৪ নম্বর বুথে অন্তত ১০ জন এমন ভোটারের নাম পাওয়া গিয়েছে, যাদের পরিচয় ওই গ্রামের নয়। আমরা মনে করছি, তারা উত্তরপ্রদেশ, অসম বা ত্রিপুরার বাসিন্দা। আমাদের মনে হয় বিজেপি ভুয়ো ভোটার তৈরি করে ভোটে জিততে চাইছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিমান ঘোষ বলেন, রাজ্য সরকারের আধিকারিকরাই এই ভুল করে থাকতে পারেন। এখানে বিজেপির কোনও ভূমিকা নেই। আমাদের দলের নামে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।