


কারাকাস: জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা। ২৪ ঘণ্টা পরেও ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে বহু মানুষ। উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলও। দেশের অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ জানিয়েছেন, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২০। আহত ৩ হাজারের বেশি। কয়েক হাজার মানুষের খোঁজ মিলছে না। ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। গত বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার থেকে সে দেশে ত্রাণ ও চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে শুরু হল ভারতের ‘অপারেশন আমিস্তাদ’। স্প্যানিশ ভাষায় ‘আমিস্তাদ’ শব্দের অর্থ ‘বন্ধুত্ব’।
ভূমিকম্পের পর বহু জায়গায় দেখা যায়, সরকারি উদ্ধারকারী দল পৌঁছনোর আগেই সাধারণ মানুষ নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজ শুরু করেছেন। কোথাও কোথাও যন্ত্রপাতি ছাড়াই কংক্রিট ভেঙে উদ্ধার কাজ চালান তাঁরা। ধুলো ও রক্ত মাখা অবস্থায় শিশু, মহিলা, এমনকি পোষ্যদেরও উদ্ধার করার ভিডিয়ো ছড়িয়েছে। নিখোঁজদের খোঁজে বহু পরিবার প্রিয়জনদের ছবি সহ পোস্টার টাঙিয়েছেন। কেউ হাতে লেখা তালিকা নিয়ে হাসপাতাল, আশ্রয়কেন্দ্রে ঘুরছেন। দেশের বহু জায়গায় ব্যাহত মোবাইল পরিষেবা। এর জেরে আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বিদেশে বসবাসকারী ভেনেজুয়েলার বাসিন্দারা। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, লা গুয়াইরার বাসিন্দা আম্পারো দেল জিউদিচে বিশাল কংক্রিটের স্তূপের সামনে বসে খালি হাতে ধ্বংসস্তূপের পাথর সরাচ্ছেন। সঙ্গে চিৎকার, ‘ওখানেই আমার সন্তান রয়েছে।’ লা গুয়াইরার একটি দশতলা আবাসন ভেঙে পড়েছে। তার নীচ থেকে এক কিশোরীকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকারী দলের প্রধান হোসে লুইস নুনিয়েস।
এই বিপর্যয়ের ফলে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বুধবার রাতেই দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন রড্রিগেজ। পাশাপাশি ২০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠনের কথাও জানান তিনি। জরুরি তথ্য আদান প্রদানের জন্য সমাজমাধ্যমের উপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছিল রাষ্ট্রসংঘ। তারপরই ভেনেজুয়েলায় এক্স হ্যান্ডল ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে।