


পক্ষে
পরীক্ষার পরের ছুটি শুধু অবকাশের সময় নয়, এটি স্বপ্ন গড়ার সোনালি সুযোগ। আজকের নবীন প্রজন্ম এই সময়টিকে দক্ষতা উন্নয়ন, অনলাইন কোর্স, ইন্টার্নশিপ ও বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নিয়ে ফলপ্রসূ করে তুলছে। কেউ শিখছে নতুন ভাষা, কেউ প্রযুক্তি বা সৃজনশীল কাজে নিজেকে দক্ষ করছে। অনেকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ বা ছোটো প্রকল্পে যুক্ত হয়ে নেতৃত্ব ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াচ্ছে। এতে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য আরও স্পষ্ট হয়। প্রতিযোগিতামূলক এই যুগে সময়ের সঠিক ব্যবহারই সাফল্যের চাবিকাঠি। তাই ছুটিকে সৃজনশীল ও পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের পরিচয়।
ছাত্র
আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের জীবনে সাফল্য লাভ করার জন্য দিন-রাত লড়াই করে চলেছি। আর এই ছুটির দিনগুলোতে নিজেদের নতুন করে গড়ে তোলার জন্য অফুরন্ত সময় থাকে। শুধু ভালো ছাত্র-ছাত্রীরা নয়, ব্যাকবেঞ্চাররাও নিজেদের কেরিয়ার গড়তে এইসময় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। শুধু পড়াশোনার মধ্যে দিয়েই নয়। যে যেটায় পারদর্শী, সেটাকেই তারা কেরিয়ার হিসেবে বেছে নেয়। কেরিয়ার গড়া মানে, একজন দায়িত্ববান ও ভালো মানুষ হয়ে ওঠা। জীবনে ওঠা-পড়ার মধ্য দিয়েই তারা সাফল্যের পথ খুঁজে পায়। আর এখানেই নবীন প্রজন্মকে এগিয়ে দেওয়ার পেছনে প্রবীণ প্রজন্মের গুরুত্ব স্বীকার করতেই হবে।
ছাত্রী
পরীক্ষার পরে সময়টাই বেশ অনেকগুলো দিন পাওয়া যায়। আর সেই সময়টাই পরবর্তী দিনের বা ভবিষ্যতের জন্য চিন্তা ভাবনা করতে কাজে লাগে। এখন আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনেক বড়ো আকার ধারণ করেছে। আগে যেমন শুধুই পড়াশোনাকেন্দ্রিক ভাবনা চিন্তা করতে হত, এখন আর তেমনটা নেই। বর্তমানে পরীক্ষার শেষে নানারকম কোর্স করার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে নবীন প্রজন্ম। যা তাদের কেরিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ছুটির সময় আত্মীয়দের বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার সুবাদে কেরিয়ার নিয়ে সকল অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনাও করা যায়। যা থেকে অনেক পরামর্শ পাওয়া যায়। তাই সর্বোপরি বলা যায় নবীন প্রজন্ম ছুটি কেরিয়ারের জন্যই কাজে লাগায়।
স্নাতকস্তরের ছাত্রী
বিপক্ষে
নবীন প্রজন্মের অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী মুঠোফোনে আসক্ত। ফলে পরীক্ষার পরের ছুটির দিনগুলো অনলাইন গেম খেলে, রিলস দেখেই পার করে দিচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ কান্ডারিরা। আবার অনেকে এই ছুটিতে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ে। কেরিয়ার গড়ার লক্ষ্যে একপ্রকার উদাসীনতা প্রকাশ পায় বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে। ফলস্বরূপ শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চাকরিজীবী
আমাদের গোটা জীবনের বেশিরভাগ সময়ই পড়াশোনার জন্য কেটে যায়। পরীক্ষার সময় রাতের ঘুম ছুটে যায় সকলের। পরীক্ষা শেষের পর ছুটিতে গল্পের বই পড়ে, সিনেমা দেখে কিংবা শরীরচর্চা করে সময় কেটে যায়। তাই কেরিয়ার আর পড়াশোনার পাশাপাশি একটা নতুন জীবনের সন্ধানে পরীক্ষার পরের ছুটি উপভোগ করে বর্তমান তরুণ প্রজন্ম।
ছাত্র
প্রথমেই স্বীকার করে নেওয়া ভালো, কিছু সংখ্যক ছেলেমেয়ে আছে যারা কেরিয়ার সচেতন। তারা সারাবছর লেখাপড়ার মধ্যে থাকে। পরীক্ষা পরবর্তী ছুটির সময়ও তারা লেখাপড়া চালিয়ে যায়। শতকরা হিসেবে এমন ছেলেমেয়ের সংখ্যা হাতে গোনা। সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জীবনে বড়ো পরীক্ষা হল মাধ্যমিক। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কিছু সংখ্যক হলেও পরীক্ষা শেষে বই খাতা ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলছে, এমন দৃশ্য আমরা বেশ কয়েক বছর দেখছি সংবাদপত্রের সৌজন্যে। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, অধিকাংশ পড়ুয়া পরীক্ষা পরবর্তী ছুটির সময় ঘোরাঘুরি করতে ভালোবাসে কিংবা একটু বিনোদন উপভোগ করতে ভালোবাসে। সেখানে লেখাপড়া সংক্রান্ত কোনো বিষয় নেই।
রাজ্য সরকারি কর্মচারী
ছবি: অতূণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়ন চক্রবর্তী