


বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ২০১২-১৩ থেকে টানা চুক্তির শিক্ষকদের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট (পিজি) গাইড হিসাবে নিযুক্ত করে অসংখ্য হোমিয়োপ্যাথিক চিকিৎসক-পড়ুয়াকে এমডি করানো হয়েছে। ছিনিমিনি খেলা হয়েছে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে হোমিয়োপ্যাথির জাতীয় প্রতিষ্ঠান এনআইএইচ বা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হোমিওপ্যাথি (এনআইএইচ)-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, হোমিয়োপ্যাথির নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল কমিশন ফর হোমিয়োপ্যাথির (এনসিএইচ) গাইডলাইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নামমাত্র স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করে পিজি আসন টিকিয়ে রাখার জন্য ঠেকনা দিতে চুক্তির শিক্ষকদের গাইড হিসাবে নিয়োগ করেছে তারা। একের পর এক অধিকর্তা এসেছেন, অবসর নিয়েছেন, নয়তো সরে গিয়েছেন। কিন্তু পরিস্থিতি পালটায়নি। রেপার্টরি, অর্গানন, মেটিরিয়া মেডিকা, প্র্যাকটিস অব মেডিসিনসহ অসংখ্য বিষয়ে কন্ট্রাকচুয়াল শিক্ষকদের এমডি পড়ুয়ার গাইড করা হয়েছে। এই ‘মারাত্মক অনিয়ম’ নিয়েই অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে অসংখ্যবার সরব হয়েছেন সিনিয়র শিক্ষকদের একাংশ। প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এভাবে কোর্স সম্পূর্ণ করা পড়ুয়াদের এমডি নিয়ে যদি পরে প্রশ্ন ওঠে, কেউ আদালতে যায়, তার দায় কে নেবে? তাঁদের ভবিষ্যৎ কী হবে? এমডির কী হবে? ক্ষতিপূরণ চাইলে কে দেবে? ছাত্রছাত্রীদের তো দোষ নেই।’ কিন্তু অবস্থা বলায়নি।
এনসিএইচ-এর গাইডলাইন অনুযায়ী, স্থায়ী শিক্ষক-চিকিৎসক ছাড়া কাউকে পিজি গাইড করা যায় না। কিছুদিন আগে শেষ চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক-চিকিৎসক চলে যাওয়ার পর নতুন করে সল্টলেকের মেইন ক্যাম্পাসে আর চুক্তির শিক্ষক নেওয়া হয়নি। কিন্তু বছরকয়েক আগে চালু হওয়া এনআইএইচ-এর দিল্লির নারেলা ক্যাম্পাসেই চুক্তির শিক্ষকদের গাইড করে পড়ুয়াদের একাংশের এমডি চলছে। এনআইএইচ-এর সল্টলেক ক্যাম্পাসের ৪৭টি ও নারেলার ৪৯টি আসনে পিজির অনুমোদন আছে। কিন্তু নারেলায় স্থায়ী শিক্ষকের অভাবে চালু হয়েছে মাত্র ১৭টি পিজি আসন! বর্তমানে ৭জন স্থায়ী (পরে আরও ২ জন) এবং ৮ জন চুক্তির শিক্ষককে তাঁদের গাইড করা হচ্ছে। কিন্তু এক্সটেনশন বা পুনর্নিয়োগ করেও কি ১১ মাসের চুক্তির শিক্ষকরা গাইড হতে পারেন? কেন মেইন ক্যাম্পাসে চুক্তির শিক্ষকদের গাইড করে প্রায় ৫০ জনকে এমডি পড়ানো হয়েছে? এসব প্রশ্নে বর্তমান এনআইএইচ অধিকর্তা ডাঃ প্রলয় শর্মা বলেন, ‘বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছি।’ প্রাক্তন অধিকর্তা ডাঃ সুভাষ সিং বলেন, ‘অধিকর্তা ছাড়া কারও সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলার এক্তিয়ার নেই। নো কমেন্টস।’ এনসিএইচ-এর এডুকেশন বোর্ডের চেয়ারম্যান ডাঃ রজত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘স্বাস্থ্য রাজ্যের এক্তিয়ারভুক্ত বিষয়। আর স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় গাইডের অনুমোদন দেয়। আমরা কী করব!’