


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জ্ঞানেশ কুমারকে পদচ্যুত করার দাবিতে আন্দোলন তীব্রতর হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রবিবারও চলল বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। এমনকি যমুনার নিগমবোধ ঘাটে নৌকার উপরও প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান তুলল বিক্ষোভকারীরা। আরও একবার উত্তাল হল রাজধানী। চলল বিক্ষোভকারীদের ধরপাকড়। আটক করা হল আইসা নেত্রী নেহা বোরা, সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস সহ বিক্ষোভকারীদের। রাস্তায় ফেলে, টেনেহিঁচড়ে, চ্যাংদোলা করে বিক্ষোভকারীদের তোলা হল পুলিশের গাড়িতে। পুলিশের ‘মারে’ অসুস্থ হয়ে পড়লেন ব্রিটাস। সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক তথা প্রাক্তন সাংসদ ডি রাজা, বাম নেত্রী অ্যানি রাজা সহ বিক্ষোভকারী বাম সংগঠনের তরুণ থেকে বয়ষ্ক—কাউকে রেয়াত করেনি পুলিশ। কেড়ে নেওয়া হয় ফোনও। বাম দলগুলির অভিযোগ, বেধড়ক মারধর করা হয়েছে ব্রিটাসকে। পরে দূরে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁদের। এমন জায়গায়, যেখান থেকে মূল দিল্লিতে ফেরত আসা সময়সাপেক্ষ। পুলিশের বাস থেকে নামতে গিয়ে সিঁড়িতেই বুকে হাত দিয়ে বসে পড়েছিলেন জন ব্রিটাস। পুলিশি দুর্ব্যবহার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করে প্রধান বিচারপতিকে চিঠিও দেন তিনি। নেহা বোরাদের মতো দামালদের তোলা হয় প্রিজন ভ্যানে। যাতে বেরতে না পারে বাসের জানালার কাচ ভেঙে। দিল্লি পুলিশ সতর্ক করে দিল সাংবাদিকদেরও। বলা হল, ‘তফাৎ যাও।’ কনট প্লেস, আর কে আশ্রম, অশোক রোড, যন্তরমন্তর রোড, রাইসিনা রোডে ছিল ব্যারিকেড। মোতায়েন বিপুল বাহিনী। দিল্লি এখনও দুর্গই! রাতে বামেদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ঐশী ঘোষ সহ এসএফআইয়ের অন্যদের কনট প্লেস থানায় তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। তিরঙ্গা যাত্রার সময় পুরুষ পুলিশকর্মীরা বর্বর হামলা চালিয়েছে তাঁদের উপর।
তবে এভাবে যে প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর আটকানো যাবে না, তা ফের স্পষ্ট করে দিয়েছে মোদি বিরোধী মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’। তাই আজ, সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিযান। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাপ দেওয়ার কর্মসূচি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সহ নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালে আনা আইন বাতিল সহ এসআইআর রদের দাবিও পেশ করবে বিরোধীরা। যদিও সূত্রের খবর, সাক্ষাতে রাজি নন প্রধান বিচারপতি। এরই মধ্যে রাহুল গান্ধী ভিডিয়ো বার্তায় বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে নেমেছিল তরুণরা। তা সত্ত্বেও বিজেপির গুন্ডা আর পুলিশ পিটিয়েছে। এই ভারত আমরা চাই না। তাই সুপ্রিম কোর্ট অভিযানে সবাই যোগ দিন।’ যোগ দেবেন মমতা, অখিলেশও।