


নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয় দিল্লিতে। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে দমনপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এই নিয়ে শনিবার উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছিলেন রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) অন্যতম মুখপাত্র থামিন আল-খিতান। রবিবার তাঁর সেই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিল ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, ‘এই মন্তব্য অনভিপ্রেত। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ।’ বহুত্ববাদের প্রতি বিশ্বাস না থাকাতেই এই মন্তব্য বলে জানিয়েছে দিল্লি।
এদিন বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছেন, ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র ভারতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শনের অধিকার সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত। বিচারবিভাগ এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের নজরদারিতে সেই অধিকার সুরক্ষিত।’ একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, আইন মেনে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা রক্ষা করা হয়েছে। আর দাবি দাওয়া পূরণে অনেকেই আদালতে গিয়েছেন।
এই নিয়ে রাষ্ট্রসংঘের দ্বিচারিতারও সমালোচনা করেছেন জয়সওয়াল। একই সঙ্গে তাঁর পরামর্শ, অন্য দেশগুলির প্রতি নজর দিক রাষ্ট্রসংঘ। তাঁর কথায়, ‘মানবাধিকারের প্রশ্নে রাষ্ট্রসংঘের আচরণ এক এক
দেশের প্রতি এক একরকম। প্রতিবেশী দেশগুলিতে একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হলে তা ওএইচসিএইচআর-এর নজর এড়িয়ে যায়। এই নিয়ে কোনোরকম বিবৃতি নজরে পড়ে না।’
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার উত্তাল হয়েছিল দিল্লি। এরপরই শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে যাতে সম্মান করা হয়, তা নিশ্চিত করতে দিল্লিকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ওএইচসিএইচআর-এর অন্যতম মুখপাত্র থামিন আল-খিতান। তিনি বলেছিলেন, ‘দিল্লিতে বিক্ষোভ চলাকালীন বিক্ষোভকারী, প্রতিবাদী নেতা, নাগরিক সমাজের সদস্য, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের গণহারে আটক করার খবরে আমরা উদ্বিগ্ন।’ আটকদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তিরও দাবি করেছিলেন তিনি।