


নয়াদিল্লি: বাতাসে বোমা-বারুদের গন্ধ। তেহরানের বাতাসে মিশছে বিষাক্ত রাসায়নিক কণা। তেলভাণ্ডারে হামলার জেরে কালো ধোঁয়ায় ঢেকেছিল ইরানের রাজধানীর বাতাস। সেখানে অ্যাসিড বৃষ্টির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল দিল্লির বাতাস তেহরানের থেকেও বিষাক্ত। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্য। দেখা গিয়েছে, তেহরানের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ৫০ থেকে ৭০-এর মধ্যে। যেটি ‘ভালো থেকে মাঝারি’র মধ্যে পড়ছে। অপরদিকে, দিল্লির একিউআই হল ১৫০ বেশি। সূচকের এই পরিমাপ ‘খারাপ ও অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পড়ে।
তেহরানের তেলভাণ্ডার থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র ফেলছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। তার জেরে বাতাসে মিশছে হাইড্রোকার্বন, সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইডের মতো বিষাক্ত গ্যাস। তারপরও বাতাসের দূষণের মাত্রা দিল্লিকে ছাপিয়ে যায়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী দিল্লির অবস্থান গাঙ্গেয় সমতলে। যেটি বিশ্বের দূষিত অঞ্চলগুলির মধ্যে পড়ে। তার উপর কলকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া মিশছে বাতাসে। এছাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, পাঞ্জাব ও হরিয়ানাতে ব্যাপকভাবে ফসলের গোড়ার অংশ বা নাড়া পোড়ানো এবং দীপাবলির সময় বাজি ফাটানোর জেরে দূষণে ঢেকে যায় দিল্লির আকাশ। তাছাড়া বাতাসের গতিপ্রকৃতি ও তাপমাত্রার ওঠানামাও দিল্লির দূষণের অন্যতম কারণ। অন্যদিকে তেহরানের জনসংখ্যা দিল্লির তুলনায় অনেকটাই কম। সেখানে কলকারখানাও বেশি নেই, দূষণের জন্য মূলত যানবাহনের ধোঁয়াকে দায়ী করা হয়ে থাকে। এই কারণে যুদ্ধের বিষাক্ত গ্যাস বাতাসে মিশলেও লাফিয়ে বাড়েনি বাতাসে দূষণের মাত্রা।