


নয়াদিল্লি, ২২ অক্টোবর: ছেঁড়া টাকা নিতে চাননি তিনি। এরপরেই চলে মারধর। করা হয় হেনস্তাও। এমনটাই অভিযোগ করেছিলেন এক ডেলিভারি বয়। এমনকী খারাপ ভাষায় অপমানও করা হয়। এরপরেই আত্মহত্যা করেন সমীর হোসেন। দিল্লির ইস্ট ভিনোদ নগরে ৪ অক্টোবর তিনি ডেলিভেরি দিতে গিয়েছিলেন। এরপরে তাঁকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ তোলেন ২৪ বছর বয়সী সমীর। অপমানের জেরেই এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি করা হচ্ছে।
মৃত্যুর আগে এই ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। যেখানে সমীর তাঁর সঙ্গে ঘটা সমস্ত ঘটনা নিজের ভাষায় সকলের সামনে তুলে ধরেন। তিনি ভিডিওতে বলেন, ‘কফির অর্ডার করা হয়েছিল। টাকা দিতে কিছুটা দেরি হলেও আমি কিছু বলিনি। এরপর একটি ১০ টাকার ছেঁড়া নোট দেওয়া হলে আমি তা নিতে চাইনি। তখন আমাকে অত্যন্ত খারাপ ভাষায় অপমান করা হয়। আমাকে বলা হয়, ‘হয় টাকা নাও, না হলে চলে যাও।’ সামান্য কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হঠাৎ করে এক ব্যক্তি এসে কোনো কথাবার্তা না বলেই আমাকে সজোরে চড় মারেন।” ৪ তারিখের এই ঘটনার পরই পুলিশকে পুরো বিষয়টি জানিয়েছিলেন সমীর। তবে ভিডিওতে তাঁকে এও বলতে শোনা যায় যে, তিনি গরিব হওয়ায় হয়তো তিনি কোনো বিচারই পাবেন না।
এই ঘটনায় তোলপাড় হয় সমাজমাধ্যমে। নেটপাড়ায় প্রতিবাদের ঢেউ ওঠে। পুলিশ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। ধৃতদের নাম রাকেশ (৩০) এবং রামপাল সিং (৬৫)। গত ৫ অক্টোবর ওই চরম সিদ্ধান্ত নেন সমীর। এরপর দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত ২০ অক্টোবর হাসপাতালেই তাঁর মৃত্যু হয়। একজন সহনাগরিকের প্রতি এহেন দুর্ব্যবহার এবং খেটে খাওয়া মানুষকে কেন যথাযথ সম্মান দেওয়া হবে না? সেই প্রশ্নই তুলছেন অনেকে।