


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তিন বছর আগে ভোটে বাইচুং ভুটিয়াকে হারিয়ে ফেডারেশন সভাপতি হন কল্যাণ চৌবে। দুই প্রাক্তন ফুটবলারের সংঘাতে সরগরম হয়ে ওঠে রাজধানীর ফুটবল হাউস। এটা সকলেরই জানা যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ফেডারেশনের সিংহাসনে বসেন কল্যাণ। তাতে অবশ্য ভারতীয় ফুটবলের কোনও উন্নতি হয়নি। পিছতে পিছতে ব্লু টাইগার্সের বর্তমান ফিফা র্যাঙ্কিং ১৩৩। সমালোচনায় জর্জরিত কল্যাণ অ্যান্ড কোং। এমন পরিস্থিতিতে ফের তোপ দাগলেন বাইচুং ভুটিয়া। শুক্রবার কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর মন্তব্য, ‘কল্যাণের জন্য মুখ পুড়ছে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ভাবমূর্তি। ওকে যারা সভাপতি করেছিল তারাই বীতশ্রদ্ধ।’ বুঝতে অসুবিধা হয় না, বাইচুংয়ের ইঙ্গিত বিজেপির দিকেই। ফের নির্বাচন হলে তিনি কী সভাপতি পদে লড়বেন? মুচকি হেসে ওঁর জবাব, ‘রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকলে ভোটে দাঁড়িয়ে কোনও লাভ নেই।’ তাঁর সংযোজন, ‘কল্যাণ না সরলে ভারতীয় ফুটবল আরও পিছবে। খেলোয়াড় জীবনে রাজনীতি করেছে। এখনও পাল্টায়নি।’। এখানেই শেষ নয়। বাইচুংয়ের চাঞ্চল্যকর দাবি, সভাপতির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করা উচিত। বললেন, ‘২০২৭ সালের এএফসি এশিয়ান কাপের বিড প্রত্যাহার করে ভারত। টেবিলের তলায় ডিল হওয়া অসম্ভব নয়।’
পাশাপাশি সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থাকে বিঁধতে ছাড়েননি প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। প্রতি পদে ল্যাজেগোবরে হচ্ছে ফেডারেশন। আই লিগ শেষ হওয়ার দু’মাস পরেও চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা যায়নি। বাইচুংয়ের খোঁচা, ‘সার্কাস দেখাচ্ছে এআইএফএফ।’ জাতীয় দলের কোচ নির্বাচন নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। তড়িঘড়ি ইগর স্টিমাচের পরিবর্তে মানোলো মার্কুয়েজকে কোচ করে ফেডারেশন। একইসঙ্গে এফসি গোয়া ও জাতীয় দলের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে গাড্ডায় পড়েন তিনি। এখন পালাতে পারলে বাঁচেন। ফেডারেশনের টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য বাইচুং। তাঁর দাবি, মানোলোকে কোচ করার আগে কোনও আলোচনাই হয়নি। ডিরেক্টর হিসাবে সুব্রত পালকে নিয়োগের সিদ্ধান্তও বড় ভুল। বাইচুং বললেন, ‘ডিরেক্টর হিসাবে ওর ভূমিকা কেউ জানে না। সবটাই গিমিক।’
ভারতীয় ফুটবলের প্রধান টুর্নামেন্ট আইএসএল। কিন্তু ফেডারেশনের সঙ্গে মাস্টার রাইটস সই না হওয়ায় গভীর সঙ্কটে ফুটবল। আইএসএল নিয়েও অনিশ্চয়তা। বাইচুংও উদ্বিগ্ন। তাঁর পরামর্শ, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায়ের জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। তবে ফুটবলের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ এই প্রসঙ্গে ইস্ট বেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারও একই পথের পথিক। তাঁর মন্তব্য, ‘সবপক্ষ একসঙ্গে আলোচনায় বসে দ্রুত সমাধান করুক।’
এদিকে, বাইচুংয়ের তোপে ঝড় উঠেছে ফেডারেশনের অন্দরে। আগামী ২ জুলাই ফেডারেশনের কার্যকরী সমিতির বৈঠকে ডাকা হয়েছে বাইচুংকে। সভাপতির মন্তব্য, ‘বাইচুংয়ের লাগামছাড়া মন্তব্যে ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে সংস্থার। যা কোনওমতেই কাম্য নয়।’