


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘পাহাড় থেকে সমুদ্র। স্থাপত্য থেকে সংস্কৃতি। ৪৪টি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ। তাও পর্যটনে পিছিয়ে ভারত। আশানুরূপ হারে আসছেন না বিদেশি পর্যটক। নানা জটিলতায় আগ্রহ হারাচ্ছেন বিনিয়োগকারীরাও। নিয়মের কড়াকড়িতে বাড়ছে না হোটেল, হোমস্টের সংখ্যা।’ মঙ্গলবার এমনই বক্তব্য শোনা গেল পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত ও নীতি আয়োগের সদস্য রাজীব গৌবার গলায়। পর্যটনে ব্যাপক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও চাহিদামতো প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলে আক্ষেপ করেন তাঁরা। ছবিটা বদলাতে নিয়মে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি সংস্কারেও জোর দিয়েছেন দু’জনে।
নীতি আয়োগ ও পর্যটন মন্ত্রকের উদ্যোগে এদিন অশোক হোটেলে আয়োজন করা হয়েছিল ‘আনলকিং গ্রোথ ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি সেক্টর’ শীর্ষক সম্মেলনের। প্রকাশ করা হয় নীতি আয়োগের ১০৪ পাতার একটি রিপোর্টও। অংশ নিয়েছিলেন বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিরা। তাঁরা নিজেদের রাজ্যের পর্যটন সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধার কথা তুলে ধরেন। পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পর্যটন বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়।
এদিন সম্মেলনে রাজীব গৌবা বলেন, ‘বছরে ১৫ শতাংশেরও কম বিদেশি পর্যটক আসছেন ভারতে। যাঁরা আসছেন, তাঁদের মধ্যে সিংহভাগই অনাবাসী ভারতীয়। প্রকৃত বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ছে না। বিদেশিদের জন্য সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নালন্দা, বুদ্ধগয়ার মতো ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও বুদ্ধ সার্কিটে পর্যটকদের সংখ্যা অপেক্ষাকৃত কম। এ ব্যাপারে সব রাজ্যকে উদ্যোগী হতে হবে।’
তাঁর কথার সুর ধরেই গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত বলেন, ‘রাজনীতিতে আসার আগে হোটেল ব্যবসায় যুক্ত ছিলাম। নিজের অভিজ্ঞতায় বলছি, একটা হোটেল করতে গেলে ৩০-৩৫টি লাইসেন্স দরকার। অনুমতি নিতেই দীর্ঘ সময় চলে যায়। ফলে কোটি কোটি টাকার হোটেল করলেও তা চালু হয় না। তাই অনেকেই বিনিয়োগে আগ্রহ হারান। এ ব্যাপারে নিয়ম শিথিলে নীতি আয়োগের সুপারিশ মানুক রাজ্য। হোমস্টে খুলতে তুলে দেওয়া হোক পুরসভা বা পঞ্চায়েতের আবশ্যিক এনওসি। ভাড়া গাড়ির অল ইন্ডিয়া ট্যুরিস্ট পারমিটের মেয়াদ ৯০ দিন থেকে বাড়িয়ে এক বছর করা হোক।’