


নিজস্ব প্রতিনিধি, শালবনী: ভোট শুরুর আগে শালবনী ব্লকের বুড়িশোল গ্রামের অনুন্নয়ন নিয়ে সরব হয়েছিল বিজেপি। তবে ভোট প্রক্রিয়া শুরু হতেই সেই গ্রামে আর দেখা মেলেনি বিজেপির প্রার্থী কিংবা নেতাদের। এতে হতাশ গ্রামের একাংশের মানুষ। যদিও সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে সন্তুষ্টির কথাই শোনা যাচ্ছে গ্রামবাসীদের মুখে। এই পরিস্থিতিকে সামনে রেখে বুড়িশোল গ্রামে উন্নয়নের ইস্যুতে প্রচারে ঝড় তুলেছে তৃণমূল। গ্রামের ভূঁইয়া পাড়ার উন্নয়নকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হচ্ছে প্রচারে। জানা গিয়েছে, প্রায় ৫৫টি পরিবারের বাস এই গ্রামে। তার মধ্যে ‘বাংলার বাড়ি’ পেয়েছে ৪৪টি পরিবার। এছাড়াও গ্রামে পাকা রাস্তা নির্মাণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি ঘাসফুল শিবিরের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফেও জানানো হয়েছে, ব্লকের আধিকারিকরা নিয়মিত এই গ্রামে যান। কয়েক মাস আগেই এখানে একটি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। যার মাধ্যমে উপকৃত হন বহু গ্রামবাসী।
মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা বলেন, গ্রামের মানুষ একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। বিজেপির নেতারা তা দেখতে পান না। ভুল বোঝানোর চেষ্টা করলেও মানুষ উপযুক্ত জবাব দেবে।বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইত ভোট ঘোষণার আগে বহুবার এই গ্রামে গিয়ে অনুন্নয়নের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন এই গ্রামে কোনো উন্নয়ন হয়নি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে উন্নয়ন হবে। মানুষ আমাদের সঙ্গেই আছেন। গোটা বিধানসভাজুড়ে প্রচার করছি।
তবে গ্রামবাসীদের বক্তব্যেও উঠে এসেছে উন্নয়নের চিত্র। হেমন্ত ও বাচ্চু ভূঁইয়ার মতো বাসিন্দারা জানান, এলাকার অনেকেই দিনমজুরের কাজ করেন। তবে রাস্তা ও পানীয় জলের উন্নয়ন হয়েছে, এবং ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে বহু পরিবার উপকৃত হয়েছে। তাদের অনুযোগ, বিজেপি শুধুমাত্র পতাকা ও ফ্লেক্স লাগিয়েই চলে গিয়েছে। গ্রামের ভিতরে প্রচারে আসেনি।
উল্লেখ্য, বাম আমলে মাওবাদী প্রভাবের জেরে দীর্ঘদিন থমকে ছিল এই গ্রামের উন্নয়ন। ২০১৩ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে শুরু করে। বর্তমানে গ্রামে পাকা রাস্তা হওয়ায় সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছে পড়ুয়ারা। এই গ্রামের পাশেই গড়ে ওঠা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়েও বেড়েছে পরিকাঠামো। পাশাপাশি খাদ্যসাথী প্রকল্প ও তিনটি পানীয় জল প্রকল্পের সুবিধাও পাচ্ছেন বাসিন্দারা।জেলা তৃণমূলের সহসভাপতি মহম্মদ রফিক বলেন, উন্নয়ন কখনও লুকিয়ে রাখা যায় না। বিজেপি মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এই গ্রামে আগে কিছুই ছিল না। এখন কী হয়েছে নিজেরাই দেখে আসুন।