


সংবাদদাতা, বহরমপুর, জঙ্গিপুর ও ডোমকল: মাত্র সওয়া এক ঘণ্টার রোড শো করেই বেলডাঙায় সবুজ ঝড় তুলে দিয়ে গেলেন জনপ্রিয় অভিনেতা তথা ঘাটালের তৃণমূল সাংসদ দীপক অধিকারী(দেব)। রবিবার দুপুরে বেলডাঙার রাজপথে দেবকে দেখতে কার্যত জনপ্লাবন দেখা দিল। বেলডাঙায় আসার আগে রঘুনাথগঞ্জে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামানের সমর্থনে প্রচার করেন দেব। বেলডাঙা থেকে রানিনগরে গিয়ে সৌমিক হোসেনের সমর্থনে প্রচার করেন তিনি। এই দু’টি জায়গাতেও দেবদর্শনে অগনিত ভক্তের ভিড় দেখা যায়। এদিন প্রিয় নায়কের দেখা পেতে জনতার ভিড়ে রঘুনাথগঞ্জের রাজপথ স্তব্ধ হয়ে পড়ে। হুডখোলা গাড়িতে চেপে ঘাটালের সাংসদ প্রচার করেন। হাসিমুখে হাত নেড়ে জনতাকে অভিবাদন জানান। ভিড় সামলাতে পুলিশ ও তৃণমূল কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। দেব বলেন, এত মানুষের ভালোবাসা পেয়ে ভাল লাগল। মন্ত্রীসাহেব আবার জয়ী হবেন। আমি চাইব, তিনি এলাকায় আরও ভাল কাজ করুন।
রবিবার নির্দিষ্ট সময়ের আধঘণ্টা পর বেলডাঙা সিআরজিএস স্কুলমাঠের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে দেবের কপ্টার মাটি ছুঁতেই তৃণমূলের মহিলা ব্রিগেড শঙ্খধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানান। তার আগেই অবশ্য স্কুলমাঠ তৃণমূল সমর্থকদের ভিড়ে কানায় কানায় ভরে গিয়েছিল। দেব হেলিকপ্টার থেকে নেমেই ভক্তদের উদ্দেশে ফুলের মালা, উত্তরীয় ছুঁড়ে দিলেন। ভক্তদের বাড়িয়ে দেওয়া হাত ছুঁয়ে তাঁদের ইচ্ছাপূরণ করলেন। এরপর বেলডাঙার তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরীকে নিয়ে গাড়িতে উঠে রোড শো শুরু করেন। ঊচ্ছ্বসিত জনতার ভিড়ে বারবার গাড়ির চাকা থমকে যাচ্ছিল।
বেলডাঙার রোড শো সেরে দেব ইসলামপুরের নশিপুরে প্রচারে যান। সেখানে তখন দেবদর্শনে অগনিত মানুষ ভিড় করেছেন। দেব নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় ঘণ্টাখানেক দেরিতে এলেও উন্মাদনায় ভাটা পড়েনি। সুকর্ণা, লতাদের সঙ্গে উৎসাহ নিয়ে ভিড় জমিয়েছিলেন সুফিয়া, তানিয়ারা। দুপুর আড়াইটে নাগাদ দেব পৌঁছান। হেলিপ্যাড থেকে নেমে সাজানো পিকআপ ভ্যানে ওঠেন। সেসময় মুখ্যমন্ত্রীর সভা থেকে ফিরছিলেন সৌমিক হোসেন। মাঝপথে প্রার্থী দেবের গাড়িতে ওঠেন। চক কালীতলায় রোড শো শেষ হয়।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বেলডাঙায় দেবের রবিবাসরীয় প্রচার বিরোধী শিবিরে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে। অভিনেতারা প্রচারে এলে তাঁদের কাছ থেকে দেখতে ভক্তদের ভিড় থাকেই। তবে রবিবার বেলডাঙায় যে জনতার ঢল নামল-সেরকম বহুদিন দেখা যায়নি। রাস্তার দু’পাশে মানুষের হাতে তৃণমূলের ঝান্ডা, নীল-সাদা বেলুন, প্রার্থী রবিউল বা দেবের ছবি ছিল। সেইসঙ্গে রাস্তার দু’পাশে হাজার হাজার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপক মহিলা উপস্থিত ছিলেন। রোড শো’য়ে জনতার উদ্দেশে দেব ফুল ছুঁড়ে দেন। হাতে হাতে অটোগ্রাফও দিয়েছেন। হাসপাতাল মোড়ে দেবের দিকে রুমাল বাড়িয়ে দিয়ে অটোগ্রাফ চান এক যুবতী। তারকার অটোগ্রাফ সহ রুমাল ফিরে পেয়ে তিনি আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। বললেন, এবার প্রথম ভোট দেব। আর কাকে দেব আজই ঠিক করে ফেললাম।
ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী বলেন, বেলডাঙাবাসী উন্নয়নের পাশে আছে। তৃণমূলের সঙ্গে আছে। এটা আরও একবার প্রমাণিত হল।