


সংবাদদাতা, বনগাঁ: মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে মতুয়া ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ল মতুয়াধাম ঠাকুরনগরে। বৃহস্পতিবার লক্ষ লক্ষ মতুয়া ভক্ত কামনা সাগরে ডুব দিলেন। ভক্তদের বিশ্বাস, কামনা সাগরে স্নান করলে মনস্কামনা পূরণ হয়। মতুয়াদের আরাধ্য হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্ম তিথি উপলক্ষ্যে প্রতিবছর ঠাকুরনগরে বারুণী মেলার আয়োজন করা হয়। দূরদূরান্ত থেকে মতুয়া ভক্তরা আসেন মেলায়। বুধবার রাত থেকেই ঠাকুরবাড়ির কামনা সাগরে পুণ্যস্নান শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল হতেই ভক্তদের ঢল নামে কামনা সাগরে।
গতবছর কামনা সাগরে ডুব দিয়ে মানত করেছিলেন চাকলার বাসিন্দা সুধীর গোঁসাই। তাঁর মনস্কামনা পূরণ হওয়ায় এবারও এসেছেন পুণ্যস্নানে। তিনি বলেন, এই পুকুরে স্নান করে মানত করলে মনস্কামনা পূরণ হয়। তাই তো বারবার ছুটে আসি ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে।
গত কয়েক বছর মেলা পরিচালনা নিয়ে ঠাকুর বাড়িতে পারিবারিক বিবাদ প্রকাশ্যে এসেছে। যা নিয়ে মতুয়া ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। তবে এবার মমতাবালা ঠাকুর ও শান্তনু ঠাকুরের যৌথ উদ্যোগে গঠিত কমিটি মেলা পরিচালনা করছে। যা মতুয়াদের কাছে মেলার আনন্দ অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। হালিশহরের বাসিন্দা সুদেব গাইন বলেন, আমরা সবসময় চাই মেলা হোক তীর্থের পীঠস্থান। সেখানে অশান্তি আমরা চাই না।’ মতুয়া মহাসঙ্ঘ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় ২৫ লক্ষ ভক্ত এসেছেন ঠাকুর বাড়িতে। তবে এবছর বাংলাদেশের মতুয়া ভক্তদের মেলায় আসতে দেখা যায়নি। হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্ম তিথিতে মতুয়াদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি শুভেচ্ছা বার্তা পোস্ট করেছেন। মতুয়াদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
মতুয়া ভক্তদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে এই মেলার। ছাব্বিশের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এসেছেন মতুয়া মেলায়। মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুরকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার। যা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। মতুয়াদের দাবি, রাজনীতি মুক্ত হোক ঠাকুরবাড়ি।
ছবি আছে।