


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ‘ডিজিটাল অ্যারেস্টে’র ফাঁদে ফেলতে খোদ বাঁকুড়া সাইবার থানার এক কর্তাকে ফোন করে প্রতারকরা। সম্প্রতি ওই আধিকারিকের মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। তিনি তা রিসিভ করার পরই বিষয়টি বুঝতে পারেন। ঘটনার পর পুলিস তদন্তে নেমে আন্তঃরাজ্য ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ প্রতারণা চক্রের হদিস পায়। ফোনের সূত্র ধরে বাঁকুড়া সাইবার থানার পুলিস শেখ শাহরুখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি মহারাষ্ট্রে। সে ওই প্রতারণা চক্রের অন্যতম পান্ডা। তাকে জেরা করে আরও কয়েকজনের নাম জানা গিয়েছে। জড়িতদের মধ্যে কয়েকজন রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগারে বন্দি রয়েছে বলেও শাহরুখ জেরায় স্বীকার করেছে। ইতিমধ্যেই, ওইসব সংশোধনাগারে গিয়ে চক্রের সদস্যদের হেফাজতে নিতে বাঁকুড়া পুলিসের একটি দল রওনা দিয়েছে বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
বাঁকুড়ার পুলিস সুপার বৈভব তেওয়ারি বলেন, সাইবার প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা শেখ শাহরুখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জেরা করে আমরা বেশকিছু তথ্য পেয়েছি। তার ভিত্তিতে চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সাইবার ক্রাইম থানার ওই আধিকারিক বলেন, সম্প্রতি অফিসে থাকাকালীন আমার মোবাইলে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অন্যপ্রান্ত থেকে হিন্দিভাষী এক ব্যক্তি নিজেকে শুল্কদপ্তরের আধিকারিক বলে পরিচয় দেয়। সে বলে, আমার আধার কার্ড ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে বিদেশে মাদক পাচার করা হচ্ছে। দ্রুত টাকা না পাঠালে আমার নামে মামলা রুজু হবে। কিছুক্ষণের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নম্বর থেকে আমাকে ভিডিও কল করা হবে বলেও জানানো হয়। তারপর ডিজিটাল অ্যারেস্টের কথা বলা হয়। কিছুক্ষণ একথা সেকথা বলার পর আমি নিজের পরিচয় দিই। তারপরই ওরা ফোন কেটে দেয়। আসলে আমি প্রতিমাসে অনলাইনে ওষুধ কিনে থাকি। তা পার্সেলে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই কোনওভাবে প্রতারকরা আমার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে বলে অনুমান। কারণ, কথার ফাঁকে ওই প্রতারক অনলাইনে ওষুধ কেনার বিষয়টিও উল্লেখ করেছিল।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকমাস ধরে বাঁকুড়ায় ডিজিটাল অ্যারেস্টের ঘটনা বেড়ে গিয়েছে। প্রতিদিনই পুলিসের কাছে নতুন অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। বাঁকুড়া সাইবার ক্রাইম থানার আধিকারিকরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তদন্ত প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন। তারমধ্যে খোদ সাইবার ক্রাইম থানার আধিকারিকের কাছেই প্রতারকদের ফোন আসায় বিষয়টি অন্যমাত্রা পেয়েছে।
বিভিন্ন ফোন কলের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা মহারাষ্ট্র কেন্দ্রিক ওই প্রতারণা চক্রের সন্ধান পান। তখনই শেখ শাহরুখের ব্যাপারে পুলিস জানতে পারে। তাকে গ্রেপ্তার করেই তদন্তকারীরা একের পর এক রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছেন। দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে ওই চক্রের আরও এক পান্ডা বন্দি রয়েছে। তাকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ করে বাঁকুড়ায় আনার ব্যাপারে পুলিস আটঘাট বেঁধে ময়দানে নেমেছে। যদিও তদন্তের স্বার্থে সাইবার ক্রাইম থানা বা জেলা পুলিসের কর্তারা এখনই তার নাম, পরিচয় বলতে চাইছেন না। তবে সেও যে ভিন রাজ্যেরই বাসিন্দা তা পুলিস স্পষ্ট করেছে।