


নিজস্ব প্রতিনিধি, দীঘা: ‘মুখ্যমন্ত্রীকে দিয়ে ভগবান একটা ভালো কাজ করিয়ে নিয়েছেন।’ বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দিয়ে বেরিয়ে আসার পর এই মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। দিলীপবাবুর বক্তব্যকে মাথা নেড়ে সমর্থন জানান রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। দিলীপবাবু সস্ত্রীক দীঘায় আসায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কারণ বঙ্গ বিজেপি আগাগোড়া জগন্নাথ মন্দিরের সমালোচনা করে গিয়েছে।
বুধবার অক্ষয় তৃতীয়ার পুণ্যতিথিতে বিকেল ৩টে ১০ মিনিটে দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হিডকোর ভাইস চেয়ারম্যান হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে দিলীপবাবু এদিন দীঘায় পৌঁছন। বিজেপি নেতাকে ঘিরে প্রচণ্ড ভিড় হয়। আশপাশ থেকে ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি ওঠে। সাধারণ মানুষের ভিড় ঠেলে মূল মন্দিরের দিকে এগিয়ে যান দিলীপবাবু। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী রিঙ্কুদেবী। পুজো দিয়ে বেরিয়ে আসার পরই দিলীপবাবু ও তাঁর স্ত্রীর গলায় মালা পরিয়ে দেন ভক্তরা। দিলীপবাবুও ঘনঘন ‘জয় জগন্নাথ’ ধ্বনি দেন। পুজো দেওয়ার পর দিলীপবাবুকে অতিথি নিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সহ প্রশাসনিক কর্তারা। দিলীপবাবু ভক্তদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজ আপনারা ভগবানের মন্দিরে এসেছেন। সকলে আনন্দ করুন।’ এদিনই কাঁথিতে সনাতনী সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই সম্মেলনে যোগ না দিয়েই কাঁথির উপর দিয়ে সড়কপথে সরাসরি দীঘায় পৌঁছন দিলীপবাবু। এখানে আসার জন্য দল কোনও ব্যবস্থা নিলে কী হবে? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দিলীপবাবু বলেন, ‘আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। ভগবান দর্শন করতে এসেছি।’ এদিকে, বঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সভাপতির এহেন আচরণে ক্ষুব্ধ গেরুয়া শিবির। দল তাঁর এহেন সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে না, এদিনই সেটা সাফ জানিয়েছেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায়, মুর্শিদাবাদ থেকে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে সনাতনী হিন্দুদের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে জিহাদিরা। সেই আবহে আমরা প্রথম থেকেই দীঘার ওই সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। অন্যদিকে, দলের সংখ্যালঘু মোর্চার প্রাক্তন পদাধিকারী সামসুর রহমান এদিনই দিলীপ ঘোষের দীঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়া নিয়ে জাতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। নিজস্ব চিত্র