


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: তৃণমূলের টিকিটে জিতে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ২০ জন সদস্যর সদস্যপদ খারিজ ইস্যুতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাজের গতিবিধির সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে ছিল শুনানি। স্পিকার এবং সুদীপ-কাকলিদের মতো ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ২৫ আগস্ট মামলার প্রথমদিনের শুনানিতেই স্পিকারের অবস্থান জানতে চেয়েছিল শীর্ষ আদালত। একইভাবে ২০ জনকেও জবাবদিহির নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কেউই জবাব দেননি। তাই এদিন শুনানিতে খানিক অসন্তোষ প্রকাশ করে সর্বোচ্চ আদালত। স্পিকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল বার বার বিচারপতিদের ক্ষোভ প্রশমিত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু অভিষেকের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সুপ্রিম কোর্টের কথাও মানছেন না স্পিকার? এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া ২০ জনও কোনো জবাব দিচ্ছেন না কেন? তবে কি সুপ্রিম কোর্টকে তাঁরাও মানছেন না? যদিও সুদীপ-কাকলিদের আইনজীবী নীরজ কিষেন কওল আদালতে জানান, আমরা নিশ্চয় জবাব দেব। চার সপ্তাহ সময় দিন। সেই সময় দেওয়া হল, তবে শুনানির পর্যবেক্ষণে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য, ‘লোকসভার স্পিকার পদ একটি সাংবিধানিক পদ। সুপ্রিম কোর্টও একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। তাই এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করছি না। তবে এ ধরনের সাংসদ সদস্যপদ খারিজের আবেদনের সিদ্ধান্ত সাধারণত তিন মাসের মধ্যে নেওয়াই বিধি। কিন্তু স্পিকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তাই বিষয়টি আমরা ‘রেড ফ্ল্যাগ’ করছি। স্পিকারের আরো উদ্যোগী হওয়াই কাম্য। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।’ আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে লোকসভার স্পিকারকে এ ব্যাপারে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সুপ্রিম কোর্টকে জানাতে বলা হয়েছে।
যদিও তুষার মেহতা বলেন, নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা নির্ধারণ করা ঠিক হবে না। লোকসভার স্পিকার ইতিমধ্যেই গত ২৫ আগস্ট ওই ২০ জন সাংসদকে নোটিস পাঠিয়েছেন। তাঁদের থেকে বক্তব্য জানতে চেয়েছেন। তখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল চড়ান। বলেন, স্পিকারের অফিস ওই ২০ জনকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। পরে সেটি বাড়িয়ে ২২ সেপ্টেম্বর করা হয়। এখন আরো চার সপ্তাহ সময় চেয়েছেন ওই ২০ জন। কেন তাঁদের এতো সময় দেওয়া হবে। গত জুন মাসেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ওই ২০ জনের সদস্যপদ খারিজের জন্য স্পিকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাবের পর প্রধান বিচারপতিও বলেন, ‘একটা তো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেটি সময়ে নেওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। তাই এ ব্যাপারে স্পিকারের কর্তব্য মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চার সপ্তাহ সময় দেওয়া হল।’ আগামী ৭ অক্টোবর পরবর্তী শুনানি হবে।