


অনিমেষ মণ্ডল, আউশগ্রাম: গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, রান্নার জন্য জঙ্গলের শুকনো কাঠ সংগ্রহ করছেন গ্রামের দুঃস্থ পরিবারের মহিলারা। মঙ্গলকোট, আউশগ্রামের বহু বধূ এখন গ্যাস তুলে রেখে কাঠের জ্বালানিতেই রান্না করছেন। জঙ্গলের শুকনো পাতা, কাঠ বোঝাই করে তাঁরা নিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম দফা ভোটে মহিলাদের যোগদান উল্লেখযোগ্য ছিল। দ্বিতীয় দফার ভোটেও মহিলারা জবাব দিতে মুখিয়ে রয়েছেন।
মঙ্গলকোটের নতুনহাট-গুসকরা রোডের দু’পাশে বহু গাছের সারি রয়েছে। আউশগ্রামের শুখাডাঙা, ভাল্কি এলাকার এখন বহু বধূ সকাল হতেই জঙ্গলে গিয়ে শুকনো ডালপালা সংগ্রহ করছেন। তারপর তাঁরা বাড়ি ফিরছেন। মহিলারা বলছেন, হেঁশেলে আগুন ধরিয়েছে মোদি সরকার। আগে আমরা গ্যাস ব্যবহার করতাম, এখন হন্যে হয়ে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছি না। তাই বাধ্য হয়েই শুকনো কাঠ সংগ্রহ করছি। একদিন এসে নিয়ে যাচ্ছি, তাতে অন্তত তিনদিন রান্না হচ্ছে। আমাদের আগে কোনোদিন এভাবে অসহায়ের মতো রান্নার জন্য গাছের শুকনো ডাল সংগ্রহ করতে হয়নি।
মঙ্গলকোটের মজলিশ দিঘির পাড় এলাকার বধূ মিনা ধারা, মায়া মাঝি বলেন, আমাদের স্বামীরা সব দিনমজুরি করে সংসার চালান। গ্যাসের দাম এখন বেড়েছে, তার উপর গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছি না। মোদি সরকার এখনো আমাদের রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের জোগান দিতে পারছে না। আবার দাম বাড়িয়েছে। তাই গাছের শুকনো ডাল নিয়ে যাচ্ছি রান্নার জন্য। এর জবাব আমরা ভোটে দেব। আউশগ্রামে ৩৫ শতাংশের বেশি তফসিলি জাতি উপজাতির বসবাস। তার উপর আদিবাসীদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। আউশগ্রামের যাদবগঞ্জ, লক্ষ্মীগঞ্জ, ভাল্কির জঙ্গলে সকাল হলেই জঙ্গলে দেখা মিলছে বহু আদিবাসী মহিলাদের। তাঁরা ঝাঁটা নিয়ে গাছের শুকনো পাতা সংগ্রহ করছেন রান্নার জন্য। গৌরি মাঝি বলছিলেন, মোদি সরকার রান্নার গ্যাসটাও দিচ্ছে না। এটা ছাড়া উপায় নেই।
শুখাডাঙা এলাকার বাসিন্দা লক্ষ্মী মুর্মু, সরস্বতী মুর্মু বলেন, এখনকার দিনে পাতা পুড়িয়ে রান্না কেউ কি করে, গ্যাস না পেলে আমরা কি করব? জঙ্গলে ঝুঁকি নিয়েই যেতে হচ্ছে দু’টো শুকনো ডালপালার জন্য। এর জবাব আমরা ভোটে দেব।
মঙ্গলকোটের তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব চৌধুরী বলছেন, বিজেপি সরকার সাধারণ খেটে খাওয়া পরিবারগুলির শোচনীয় অবস্থা করেছে। বাংলার মানুষ এই অত্যাচার মেনে নেবেন না। তাঁরা ঠিক জবাব দেবেন। পাল্টা মঙ্গলকোটের বিজেপি প্রার্থী শিশির ঘোষ বলেন, তৃণমূল যাই বলুক, এবার মানুষ জানেন কী করতে হবে, তাঁরা আমাদেরই বেছে নেবেন।