


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখা নেই। অথচ নামের পাশে বড় বড় করে লেখা এমডি, ডিএনবি, এফপিসি, এমএএমএস, এমসিজিপি, ডিএফএম। এখানেই শেষ নয়। বর্ধমান শহরের সেই ‘ডাক্তার’-এর প্রেসক্রিপশনে উল্লেখ রয়েছে, ডিআইএবি, পিজি ডিপ্লোমা ইন গ্যাস্ট্রো মেডিসিন, পিজি ইন ডায়াবেটিস, সার্টিফিকেট ইন থাইরয়েড, সার্টিফিকেট ফর্ম রয়াল কলেজ অব ফিজিসিয়ান সহ আরও অনেক কিছু। এসব দেখে শহরের বহু প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসকের মাথায় হাত। তাঁরা বলছেন, ডিগ্রি লিখতে প্রেসক্রিপশনের অর্ধেক জায়গা চলে গিয়েছে। শুধু রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার জায়গা হয়নি। স্বাস্থ্যদপ্তর সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এবার থেকে এসব চলবে না। যিনি যা ডিগ্রিই করে আসুন না কেন রেজিস্ট্রেশন নম্বর তাঁকে লিখতেই হবে। তা না হলে ভুয়ো ধরে নিয়ে তাঁর চেম্বারে অভিযান চালানো হবে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নামের পাশে চিকিৎসক লিখে যাঁরা প্র্যাকটিস করছেন তাঁদের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি বা প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি কলেজ থেকে যাঁরা পাশ করেছেন তাঁদের সমস্যা নেই। কিন্তু যাঁরা বিদেশ বা অন্য রাজ্য থেকে পড়াশোনা করে এসেছেন বলে দাবি করছেন তাঁদেরই অনেকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখতে সমস্যা। আসলে এর পিছনে অন্য রহস্য রয়েছে। কেউ কেউ আবার এখন দাবি করছেন, তাঁরা অনলাইনে ক্লাস করে বিভিন্ন ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, আমরা তালিকা তৈরি করছি। শহরে এখনও অনেক ভুয়ো ডাক্তার প্র্যাকটিস করছেন। প্রেসক্রিপশনে তাঁরা রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখছেন না। সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে জোরদার আন্দোলন করা হবে। বিজেপি নেতা অনীশ দাস বলেন, তৃণমূলের আমলে এই সমস্ত ভুয়ো ডাক্তারদের জন্ম হয়েছিল। আমাদের সরকার তাদের চিহ্নিত করে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করছে। প্রেসক্রিপশনে কেউ রেজিস্ট্রেশন নম্বর না লিখলে রোগীর পরিবারের লোকজন স্বাস্থ্যদপ্তরে যোগাযোগ করতে পারেন। অনেকে আবার প্রেসক্রিপশনে পুরো নাম লিখছেন না। কয়েক দিন আগে বর্ধমানে এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজ চলছে। ১৫ বছরের আবর্জনা পরিষ্কার করতে একটু সময় লাগছে। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, প্রেসক্রিপশনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর লিখতেই হবে। অনেক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বর্ধমানের নবাবহাটে নার্সিংহোমে চার বছরের শিশুর মৃত্যুর পর ভুয়ো চিকিৎসকের বিষয়টি সামনে আছে। সাইদুল হক নামে এক ব্যক্তি ডাক্তার সেজে শিশুর অপারেশন করে। তারপরই শিশুটি মারা যায়। সাইদুল এখনও অধরা রয়েছে। তবে তার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর।