


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: চিকিৎসক স্বামী ও বান্ধবীদের সঙ্গে কসবার অ্যাক্রোপলিস মলের মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে এসে শ্লীলতাহানির শিকার হলেন তরুণী। তাঁর সঙ্গী বান্ধবীদের সঙ্গেও অশালীন আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকি মারধর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটেছে। মল কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এলে দুষ্কৃতীরা তাদেরও হুমকি দেন। তরুণী এবং তারঁর স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে শ্লীলতাহানি, মারধর সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে ছ’জনকে রাতেই গ্রেপ্তার করে কসবা থানা। ধৃতদের মধ্যে সৃজন দরবার নামে এক অভিযুক্ত কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনো করেছেন। ধৃতরা সোমবার আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন।
পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগে বাঁশদ্রোণীর বাসিন্দা ওই তরুণী জানিয়েছেন, রবিবার সন্ধ্যায় তিনি স্বামীর সঙ্গে কসবার একটি মাল্টিপ্লেক্সে যান সিনেমা দেখতে। তাঁর সঙ্গে কয়েকজন বান্ধবীও ছিলেন। সকলেই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার শো’তে এসেছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাঁদের থেকে একটু দূরে বসেছিলেন জনা ছয় তরুণ। প্রত্যেকের বয়স কুড়ি থেকে বাইশের মধ্যে। সিনেমার একটি অংশ দেখে তিনজন যুবক ওই তরুণী ও তাঁর বান্ধবীদের লক্ষ্য করে অশালীন ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করেন চিকিৎসকের স্ত্রী। তখন তিন তরুণের সমর্থনে এগিয়ে আসেন ওই মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে আসা আরও তিনজন। যার মধ্যে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনো করা ওই তরুণও। অভিযোগ, এরপরই অভিযোগকারিনী ও তাঁর বন্ধুদের উপর চড়াও হন অভিযুক্তরা। তাঁদের সঙ্গে বচসা শুরু করে। তরুণী ও তাঁর বান্ধবীরা আবারও প্রতিবাদ করেন।অভিযোগ এরপর তাঁদের মারধর করেন অভিযুক্তরা। থিয়েটারে উপস্থিত অন্যদের সঙ্গেও তাঁরা অভব্য আচরণ করেনবলে জানা গিয়েছে। চিৎকার চেঁচামেচির খবর পেয়ে ওই মলের লোকজন আসেন। তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়ান ওই ছ’জন। জেনারেল ম্যানেজার (ফেসিলিটি) শিবসাগর সাউ বলেন, ওই ছ’জনের অভব্য ও অশালীন আচরণের প্রতিবাদ জানানোর সঙ্গেই কসবা থানায় অভিযোগ জানানো হয়। আমাদের কাছে অতিথিদের নিরাপত্তা রক্ষাই প্রথম প্রায়োরিটি। মিনিট দশেকের মধ্যেই পুলিশ সেখানে পৌঁছয়। থানার অফিসারদের দেখে আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন ওই ছ’জন। ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশুনো করা তরুণ পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। সকলকেই আটক করে কসবা থানায় নিয়ে আসা হয়। তরুণী ও তাঁর স্বামী থানায় এসে লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ শ্লীলতাহানি, মারধর, জোর করে আটকে রাখা সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে। তার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা ছয় অভিযুক্তকে।সোমবার ধৃতদের আলিপুর আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্তদের আইনজীবীরা বলেন, তরুণীকে তাঁরা শ্লীলতাহানি করেনি। কেবল মৌখিক বাকবিতন্ডা হয়েছে। প্রত্যেকেই ছাত্র। সরকারি আইনজীবী সাজ্জাদ আলি খান বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভব্য আচরণ, শ্লীলতাহানি সহ বিভিন্ন অভিযোগের জোরালো প্রমাণ রয়েছে। সিসি ক্যামেরায় সবকিছু ধরা পড়েছে। সওয়াল শেষে সকলেরই শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করে আদালত।।