


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কেরলে বিজেপি কিছুতেই ঘর গুছিয়ে উঠতে পারছে না। তাই কি কংগ্রেস নেতা তথা তরুণদের কাছে গ্রহণযোগ্য চোস্ত ইংরেজি, হিন্দি, মালওয়ালি, ফরাসি, বাংলা বলিয়ে স্মার্ট শশী থারুরকে কংগ্রেসের থেকে ভাঙাতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদি? দলের কেরল লবির প্রতি বিরক্ত হয়ে থারুরেরও কি কংগ্রেস সম্পর্কে অনীহা বাড়ছে। ফলে থারুরকে কি মন্ত্রিসভার রদবদলে বিদেশমন্ত্রী করতে চাইছেন প্রধানমন্ত্রী? রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে গুঞ্জন। যদিও থারুর নিজে জানিয়েছেন, আমি বিজেপি যাব বলে অপারেশন সিন্দুর ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করিনি। দেশের পক্ষে বিদেশে অবস্থান নিয়েছি। কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গেও যে তাঁর মতপার্থক্য রয়েছে, সেকথা স্বীকার করেছেন তিনি। তবে বিশস্ত সূত্রে খবর, সম্প্রতি থারুরের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর কথা হয়েছে। কিছুদিন আগে রাহুল ছিলেন লন্ডনে। সেখানে অন্য কাজে গিয়েছিলেন থারুরও। সেখানেই দুজনের মধ্যে কথা হয়েছে। থারুরের অবস্থান সম্পর্কে রাহুল কোনও বিরূপ মন্তব্য করেননি। থারুরের ওপর রাহুলের আস্থাও রয়েছে। কিন্তু রাহুল গান্ধী যতই নিশ্চিন্ত হন, শশী থারুর সম্পর্কে কী দিল্লি, কী কেরল, দলীয় নেতৃত্ব মোটেই খুশি নন। পহেলগাঁও হামলার পর বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। পাকিস্তান ইস্যুতে বিশ্বমঞ্চে জয়শঙ্কর তেমন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারেননি বলেই অভিযোগ। সেদিক থেকে সরকারের পাঠানো বিশ্বের ৩৩ টি দেশে সাংসদদের সাত প্রতিনিধিদলের একটিতে নেতৃত্ব দিয়ে শশী থারুর নজর কেড়েছেন। এতে অত্যন্ত খুশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশে ফিরে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চা চক্রে মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে শশী থারুরের সঙ্গেই মোদিকে অধিকাংশ সময় কথা বলতে দেখা গিয়েছে। এরই পাশাপাশি রাশিয়ার মস্কোয় থারুরকে এক অনুষ্ঠানে যেতে অনুমতি দিয়েছে মোদি সরকার। রাজনৈতিক মহলের খবর, নরেন্দ্র মোদিই তাঁকে পিমাকভ রিডিংস নামে ২৫-২৬ জুন মস্কোয় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সায়েন্টিক অ্যান্ড এক্সপার্ট ফোরামে পাঠিয়েছেন। সেখানে গিয়েও থারুর পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী দেশ আখ্যা নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। ওদিকে, কেরলের প্রদেশ কংগ্রেস শশী থারুরকে গুরুত্ব দিতে চায় না। ভোটে তারা তেমন সাহায্যও করে না। স্রেফ সোনিয়া-রাহুলের পছন্দ বলে ঢোঁক গিলতে বাধ্য হয়। শশী থারুরও নিজেদের জনপ্রিয়তা বজায় রেখে তিরুবন্তপুরম থেকে জিতছেন পরপর চারবার। তিনি দল ছাড়লে লোকসভার দলবিরোধী কাজের জন্য সদস্য পদ খোয়াতে হতে পারে। যদিও তাতে মন্ত্রী হওয়ার কোনও বাধা নেই। মোদি চাইলে রাজ্যসভা থেকে তাঁকে সদস্য করে মন্ত্রিসভায় জায়গা দিতেই পারেন। তাই রাজনৈতিক মহলে শশী থারুরকে নিয়ে বাড়ছে কৌতূহল।