


নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা নদীয়া: বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তি ছাড়া জেলাজুড়ে শান্তিপূর্ণভাবেই মিটল দোল উৎসব। রঙের উৎসবকে কেন্দ্র করে কিছু জায়গায় মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। তবে সামগ্রিকভাবে দোল উৎসবে মাততে দেখা যায় জেলাবাসীকে। কৃষ্ণনগর শহর জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় রং খেলা হয়। সম্প্রীতির ছবিও দেখা গিয়েছে শহরে। অন্যদিকে শহর সংলগ্ন ভূতপাড়া এলাকায় আদিবাসীরাও দোল উৎসবে মেতে ওঠেন। তবে কোথাও কোথাও বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দোল উৎসব শুরু হয়ে যায়। কালীগঞ্জ ব্লকের দেবগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ফুটবল খেলার মাঠে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়। সেখানে আবির খেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
শুক্রবার কালীগঞ্জ থানার মাটিয়ারি এলাকায় দোলের দিন দুপুরে গঙ্গায় স্নান করতে নেমে তলিয়ে যান অদেশ উপাধ্যায়(৫৪)। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর তাঁকে পুলিস তাঁর দেহ উদ্ধার করে। শনিবার মৃতদেহ ময়নাতদন্ত হয়। ওইদিন সকালে কৃষ্ণগঞ্জ থানার বানপুর এলাকায় মারপিটের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিস। কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এসপি অমরনাথ কে বলেন, প্রতিটি থানা এলাকাতেই কড়া নজরদারি ছিল। নবদ্বীপে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণভাবেই দোল উৎসবে মিটেছে।
রানাঘাটে পুলিস প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে বড় কোনও অশান্তি ছাড়াই দোল উৎসব পালিত হয়েছে। শান্তিপুরের বড় গোস্বামী বাড়ি, বড় গোপাল, মেজ গোপাল, সেজ গোপাল, শ্যামবাজার পাড়া সহ একাধিক মন্দিরে প্রতিবছরের মতো এবছরও জাঁকজমকের সঙ্গে দোল উৎসব উদযাপন হয়েছে। রানাঘাট শহরের একাধিক জায়গায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের তরফে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। যদিও কয়েকটি জায়গায় মদ্যপদের উৎপাত ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। কেবলমাত্র রানাঘাট থানা এলাকাতেই ডজনখানেক গ্রেপ্তারি হয়েছে। এছাড়াও আশপাশের গাংনাপুর, ধানতলা, হাঁসখালি, শান্তিপুর থানা এলাকাতেও বেশ কিছু গ্রেপ্তার হয়েছে। যদিও রানাঘাটের মহকুমা পুলিস আধিকারিক সবিতা গটিয়াল বলেন, পুলিসি নজরদারি সব জায়গায় ছিল। তাই বড় ধরনের অশান্তি ছাড়াই বসন্ত উৎসব সম্পন্ন করতে পারা গিয়েছে। অন্যদিকে, তেহট্ট এলাকার সব চেয়ে বড় উৎসব কৃষ্ণ রায়ের নেড়াপোড়া ও দোল। এই উপলক্ষ্যে মন্দির থেকে বিগ্রহ পালকি করে চাতরপাড়া দোল মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেড়াপোড়া ও দোল উৎসব পালন করে শনিবার আবার মন্দিরে বিগ্রহ ফিরিয়ে আনা হয়। দোলের দিন অশান্তির ঘটনায় নবদ্বীপ থানার পুলিসও ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় মারপিট, চুরি সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।