


সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: মানুষকে পরিস্রুত পানীয় জল দেওয়া নিয়েও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ উঠল নবদ্বীপে। গরম পড়তেই তীব্র জলকষ্টে ভুগছেন নবদ্বীপ ব্লকের মহিশুড়া পঞ্চায়েতের কয়েক হাজার বাসিন্দা। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আর্সেনিকযুক্ত জল পান করছেন। ভোটের আগে সমস্যার সমাধান না হলে ইভিএমে জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
বছর দুয়েক আগে বাড়ি বাড়ি নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল ওই পঞ্চায়েতে। উদ্দেশ্য ছিল, আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল সরবরাহ করা। প্রকল্পটি কেন্দ্রের ‘জল জীবন মিশন’-এর অন্তর্গত। এক্ষেত্রে প্রথমে রিজার্ভার নির্মাণের কাজে হাত দেওয়া হয়। পৌঁছে দেওয়া হয় বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইনও। তারপর থেকেই কাজ থমকে। অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে রয়েছে রিজার্ভার। অভিযোগ, এই প্রকল্পে কেন্দ্র টাকা দেওয়া বন্ধ করায় হাত গুটিয়ে নিয়েছে ঠিকাদার সংস্থা। যদিও ইতিমধ্যে খরচ হয়ে গিয়েছে কয়েক কোটি টাকা। জানা গিয়েছে, মহিশুড়ার দক্ষিণ পাড়ায় পিএইচই দপ্তর পাইপ পাতার কাজ শেষ করেছে। প্রতিটি বাড়িতে জল সরবরাহের পরিকাঠামোও তৈরি। প্রায় সাড়ে চার হাজার বাড়িতে জল জীবন মিশনের পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার কথা। কিন্তু কবে যে সেই জল আসবে, তা নিয়ে ধন্দে বাসিন্দারা। মহিশুড়া দক্ষিণপাড়া, মালিতাপাড়া, গদখালি, মাঝের চড়া, কালীনগর, কপালি পাড়া, সদগোপ পাড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ঘোষপাড়া, খড়ের মাঠ সহ পঞ্চায়েতের সাড়ে চার হাজার পরিবার মিলিয়ে প্রায় আঠারো হাজার মানুষ এই গরমে চরম জল কষ্টে ভুগছেন। জল কিনে খেতে হচ্ছে। আর যাঁদের সে ক্ষমতা নেই, তাঁরা বাধ্য হয়ে নলকূপের আর্সেনিকযুক্ত জল পান করছেন। এদিকে, দীর্ঘদিন অব্যবহারে পাইপ লাইন, ট্যাপ কল অকেজো হতে বসেছে ।
বৃহস্পতিবার মহিশুড়ার দক্ষিণ পাড়ায় গিয়ে দেখা গেল, জল জীবন মিশনের অস্থায়ী নির্মাণ শিবিরের টিনের ঘরগুলো খোলা অবস্থায় পড়ে। ভেতর পড়ে আছে বেশ কয়েক বস্তা সিমেন্ট এবং ইট। দক্ষিণ পাড়ার বাসিন্দা রৌশন সরদার বলেন, আগে এই এলাকায় মহিশুড়া চৌমাথা থেকে পিএইচই-র জল রাস্তার কলে আসত। এখন সেই জলও ঠিকমত আসে না। গৃহবধূ মৌসুমী বিবি, মিঠু বিবি এবং হাসিবা খাতুনরা বলেন, ৬ মাস আগে বাড়ি বাড়ি সংযোগ দিয়ে গিয়েছে। সেই কলগুলি এখন অকেজো। এখানকার অধিকাংশ মানুষই শ্রমজীবী। তাঁদের জল কিনে খাওয়ার ক্ষমতা নেই। মহিশুড়া পঞ্চায়েতের বাসিন্দা তথা জেলা পরিষদের সদস্য তৃণমূলের আরজুবানু খাতুন বলেন, কেন্দ্রীয় জল জীবন মিশন প্রকল্পের কাজ ২০২৪-এর জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল। রিজার্ভার তৈরির কাজ এক বছরের বেশি সময় ধরে থমকে। চাইব প্রশাসনের তরফ থেকে দ্রুত কাজটা চালু করা হোক।
নদীয়া জেলা পরিষদের পূর্ত ও পরিবহণ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, যতদূর জানি কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। যার ফলে এজেন্সিরা কাজ করছে না। কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে উন্নয়ন আটকে রেখে দিয়েছে। নবদ্বীপ বিধানসভার বিজেপির কনভেনার শশধর নন্দী বলেন, এই প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ যথা সময়ে রাজ্যগুলোকে দিয়ে দেওয়া হয়। এই সরকারকেও যথাসময়ে টাকা দিয়ে দিয়েছে। এরা সেই টাকা অন্য কাজে ব্যবহার করে কেন্দ্রের নামে দোষ দেয়।
পিএইচই দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের, ‘জল জীবন মিশন’ - এ আর্থিক ফান্ড ইস্যুর বিষয়টি অত্যন্ত ধীর। দ্রুত যাতে কাজ শেষ করা যায়, সে চেষ্টাই করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ কাজই হয়ে গিয়েছে। -নিজস্ব চিত্র