


নয়াদিল্লি: সাদা জামা। নীল জিনস বা খাকি রঙের ক্যাজুয়াল প্যান্ট। গালে কয়েকদিনের না কাটা দাড়ি। পায়ে স্নিকার্স। কানে দুল। প্রায় একইরকম পোশাক পরিহিত একদল যুবক সার দিয়ে বসে আছে রাজধানী দিল্লির রাস্তার ধারে। প্রত্যেকের হাতেই ঠিক পুলিশের মতো একটা করে মোটা ফাইবারের লাঠি। এঁরা কারা? প্রশ্ন করলেই সমস্যা। লাঠি উঁচিয়ে মারতে উদ্যত হচ্ছেন ‘ককরোচ’ বিক্ষোভকারীদের। সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য পুলিশও এসে হাজির। কিন্তু তাঁরা ওই লাঠিধারীদের থামানোর বদলে, উৎসাহ জোগাচ্ছেন। যেন ওরা সহকর্মী, সাদা পোশাকের পুলিশ! সত্যিই কি তাই? তাহলে নিজেদের পরিচয় বলতে কীসের আপত্তি? ইউনিফর্ম পরতেই বা সমস্যা কোথায়? উঠছে প্রশ্ন।
সোমবার সিজেপি আন্দোলনে বেসামাল দিল্লি সাক্ষী ছিল এমনই সাধারণ পোশাকধারীদের তাণ্ডবেরও। ছাত্রছাত্রী, নেতানেত্রী, সাংবাদিক, ইউটিউবার—আন্দোলনের সময় উপস্থিত প্রায় সকলকেই খেতে হল তাদের লাঠির ঘা। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হওয়া সংসদ অভিযানের সময় প্রশাসনের তরফে বন্ধ রাখা হয়েছিল ইন্টারনেট। তাই সেই সময়কার সরাসরি সম্প্রচার দেখা যায়নি। বিকেল থেকেই একের পর এক ছবি, ভিডিয়ো সামনে আসতে থাকে। সেখানেই দেখা যায় এই সাদা পোশাকের লাঠিধারীদের। ‘এক্স’ হ্যান্ডলে সিজেপির পোস্ট করা ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, স্রেফ পরিচয় জানতে চাওয়ায় এক আন্দোলনকারীকে কীভাবে লাঠিপেটা করলেন সাদা পোশাকের যুবক। তাঁকে সঙ্গ দিলেন ইউনিফর্মে থাকা কয়েকজন পুলিশও। সিজেপির প্রশ্ন একটাই, সাধারণ পোশাকে এই লাঠিধারী আসলে কারা? বিষয়টা নিয়ে সরব হয়েছেন সাংবাদিক রবীশ কুমার, ইউটিউবার সমধিশ ভাটিয়াও। সিজেপির পোস্ট করা অন্য এক ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে পুলিশ আধিকারিকরাই বাস-গাড়ির জানলার কাঁচ ভাঙছেন। সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে এড়িয়েও যাচ্ছেন। যদিও মঙ্গলবার সাদা পোশাকে থাকা লাঠিধারীদের সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের দাবি, সংসদ অভিযানে এত ভিড় হবে তার আন্দাজ ছিল না। তাই সাধারণ পুলিশ কর্মীদের পাশাপাশি স্পেশাল ফোর্সের আধিকারিকদেরও মোতায়েন করতে হয়। অর্থাৎ ওই সাদা পোশাকে থাকা লাঠিধারীরা প্রশাসনেরই অংশ! অন্তত তেমনই ইঙ্গিত দিল্লি পুলিশের।