


আল হুসেইন- ২ : ইস্ট বেঙ্গল- ২
(আলমার্দি, আসাফ) (রামিরেজ, আনোয়ার)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৮ বছর আগের স্মৃতি উসকেও জর্ডনের মাটিতে জয়ের পতাকা ওড়াতে ব্যর্থ ইস্ট বেঙ্গল। বুধবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’র আসরে গ্রুপ পর্বের অ্যাওয়ে ম্যাচে আল হুসেইনের বিরুদ্ধে ২ গোলে লিড নিয়েও তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হাবাস ব্রিগেড। ম্যাচের ৯ মিনিটে দলকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন ডানি রামিরেজ। ৪০ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান আনোয়ার। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আলমার্দি ও আসাফের গোলে ঘরের মাঠে হার বাঁচায় আল হুসেইন। দলে একজন বক্স স্ট্রাইকারের অভাব আর দ্বিতীয়ার্ধে অহেতুক রক্ষণাত্মক হওয়ার মাশুল দিতে হল ইস্ট বেঙ্গলকে। দল জিততে না পারলেও, ছেলেদের লড়াইয়ে অবশ্যই গর্বিত কোচ হাবাস।
প্রথমবারের জন্য এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’র মূলপর্বে প্রতিনিধিত্ব করছে দল। প্রতিপক্ষ স্কোয়াডে চার বিশ্বকাপার। তবে হাবাসের প্রশিক্ষণে এই ইস্ট বেঙ্গল ভয়ডরহীন ফুটবলে অভ্যস্ত। জর্ডনের মাটিতেও তার প্রমাণ মিলল। ম্যাচের শুরু থেকেই আল হুসেইন বক্সে চাপ বজায় রেখেছিলেন এডমুন্ড-রশিদরা। ফলও মেলে হাতেনাতে। ৯ মিনিটেই মধ্যেই অ্যাওয়ে ম্যাচে লিড নেয় লাল-হলুদ ব্রিগেড। বক্সের বাইরে থেকে রশিদের পাস ধরে গোলে শট নেন এডমুন্ড। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে তা গতি পেলেও আল হুসেইন গোলরক্ষক প্রথম প্রচেষ্টায় রুখে দেন। তবে ফিরতি বল গোলে ঠেলতে ভুল করেননি রামিরেজ (১-০)।
ম্যাচের শুরুতেই লিড নিয়ে অহেতুক রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে ইস্ট বেঙ্গল। সেই সুযোগেই পালটা চাপ বাড়ায় আল হুসেইন। ১৭ মিনিটে আরিফ হাইথামের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। দু’মিনিট বাদেই দলের নিশ্চিত পতন আটকান গিল। এর আগেই গোললাইন সেভ করেন রশিদ। প্রথমার্ধের শেষ কোয়ার্টারে অবশ্য অনেক বেশি সংঘবদ্ধ দেখায় হাবাস ব্রিগেডকে। এই পর্বে পাসিং ফুটবলে জোর দেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। এরই মধ্যে ৩৮ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সহজ সুযোগ নষ্ট করেন এডমুন্ড। জয় গুপ্তার সেন্টার ধরে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে একা পেয়ে বড় উড়িয়ে দেন এই মিজো ফুটবলার। এই সুযোগ নষ্ট না হলে ম্যাচের ফল অন্য হতেও পারত। যদিও পরের মিনিটেই রামিরেজের কর্নার থেকে জাল কাঁপান আনোয়ার (২-০)।
বিরতির পর নিজেদের ব্যর্থতায় প্রতিপক্ষকে ম্যাচে ফেরার জায়গা করে দেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। সহজেই বলের দখল হারাতে থাকেন জিকসন, জয় গুপ্তারা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৬২ মিনিটে ব্যবধান কমায় আল হুসেইন। বাঁ প্রান্তে হার্দিক ভাট বলের নিয়ন্ত্রণ হারাতেই তা থেকে খারুবার পাস থেকে জাল কাঁপান আল আলমার্দি (২-১)। শরীরে ছুড়েও বলের নাগাল পাননি গিল। মিনিট তিনেক বাদেই কুয়াশির দুরপাল্লার শট রুখে দেন লাল-হলুদ দুর্গ প্রহরী।
ডানপ্রান্ত থেকে একের পর এক আক্রমণ হতে দেখে পরিবর্তনের পথে হাঁটেন হাবাস। হার্দিকের পরিবর্তে নরিন্দর গেহলটকে নামিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন লাল-হলুদ কোচ। পাশাপাশি রামিরেজের জায়গায় রেনিয়ারকে এনে মিডল করিডরে লোক বাড়ান তিনি। তাতেও কোনো লাভ হয়নি। জিকসন পুরো সময়টা ঘুরে বেড়ালেন। রশিদও পুরো ফিট নন। আর উইং-ব্যাকের ব্যর্থতাতেই ৮৮ মিনিটে ওবাইদার সেন্টার থেকে আল হুসেইনকে সমতায় ফেরান আহমেদ আসাফ (২-২)। প্রতিপক্ষ সমতা ফেরাতেই ডাগ-আউটে হাবাসের চোখেমুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট ফুটে ওঠে। সংযোজিত সময়ে গিলের দুরন্ত সেভে জর্ডন থেকে মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে শহরে ফিরছে ইস্ট বেঙ্গল।
ইস্ট বেঙ্গল: প্রভসুখন গিল, হার্দিক (নরেন্দর), জিভুলিচ, আনোয়ার, সন্দীপ, জিকসন, রশিদ, জয় (দানু), রামিরেজ (রেনিয়ার), আসিফ (বিপিন) ও এডমুন্ড (ডেভিড)।