


আনচেরি: ডার্বিতে গোল যে কোনো ফুটবলারের স্বপ্ন। জোড়া লক্ষ্যভেদ হলে তো কথাই নেই। সেবার বড়ো ম্যাচ তেমনটাই ঘটেছিল। ২০০১ আইএফএ শিল্ড সেমি-ফাইনাল। মোহন বাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছায় ইস্ট বেঙ্গল। লাল-হলুদ জার্সিতে আমি দু’গোল করার পর মাঠেই শুরু উৎসব। ম্যাচের পর এক সমর্থক হাতে গুঁজে দিয়েছিলেন জোড়া ইলিশ। জাল কাঁপানোর হাতে গরম পুরস্কার। সেসব ঘটনা মনে পড়লে আজও রোমাঞ্চ জাগে।
আমি ও বিজু ভাই (আইএম বিজয়ন) সেবার ইস্ট বেঙ্গলে। আইএফএ শিল্ড ফাইনালে মর্যাদার লড়াই। দুর্গাপুজোর বেশি দেরি নেই। আমাদের ফ্ল্যাটের পাশেও প্যান্ডেল বাঁধার প্রস্তুতি জোরকদমে। তেমন আবহেই ফুটবল যুদ্ধ। তুষারদা, মুসা, জ্যাকসন, দীপঙ্কররা সেবার ইস্ট বেঙ্গলে। অন্যদিকে, মোহন বাগানও যথেষ্ট তৈরি। ব্যারেটো তো ছিলই। সঙ্গে রেনেডি, বাসুদেব, আর সি প্রকাশ, দেবজিতের মতো ফুটবলার। যাই হোক, ২৫ মিনিটে আমৌরিকে টপকে লক্ষ্যভেদ করি। মনে আছে, বিরতিতে বিজু ভাই বলেছিল, ‘আজ তোরই নায়ক হওয়ার দিন।’ তবে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে কামব্যাক মোহন বাগানের। সমতা ফিরিয়েছিল সেই ব্যারেটো। এরপর সেই মুহূর্ত। ম্যাচ শেষ হতে বেশিক্ষণ বাকি নেই। মোহন বাগান বক্সে বল পেতেই বাঁ পায়ের ট্যাপে গোল করে ছুটে যাই গ্যালারির দিকে। বাপরে! বাজি আর শব্দের আওয়াজে কানে তালা ধরার জোগাড়। সেই উন্মাদনা মিস করি এখনও। বৃহস্পতিবার ফের কলকাতা ডার্বি। দুর্গাপুজোর আগে প্রেস্টিজ ফাইট। আমি নিশ্চিত, সমর্থকদের রাতের ঘুম উবে যাওয়ার জোগাড়। ময়দানে খেলার সুবাদে বড়ো ম্যাচের পালস জানি। ড্রেসিং-রুমের পরিবেশই বদলে যায়।
ডুরান্ড কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে টেক্কা দিয়েছিল হাবাসের দল। এবার বদলা নিতে মুখিয়ে থাকবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। তবে হাবাসের জন্যই শিল্ড ফাইনালে মানসিকভাবে এগিয়ে থেকেই মাঠে নামবে ইস্ট বেঙ্গল।