


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ফের হাতির হানায় মৃত্যু ঝাড়গ্রামে। বৃহস্পতিবার ভোরে ঝাড়গ্রাম রেঞ্জের পুকুরিয়ায় একটি হাতি বাড়ির উঠোনে ঢুকে শুঁড়ে তুলে আছাড় মারে এক বৃদ্ধকে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের নাম পরিমল মাহাত (৬০)। ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্ৰামবাসীরা বনকর্মীদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান।
ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম বলেন, পুকুরিয়া এলাকায় হাতির হানায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। বনবিভাগের নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। জনবসতি এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বনবিভাগের নজরদারি নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। কেন হাতির হানায় মৃত্যু আটকানো যাচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলার মানুষ। গ্ৰামের মানুষ সন্ধে হলেই ঘরে ঢুকে পড়ছেন। রাস্তাঘাটেও চলাফেরা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দলছুট হাতির দল কাঁঠাল, আম, কাজু বাগানগুলোতে ঢুকে নিয়মিত তাণ্ডব চালাচ্ছে। ধান ও সব্জি চাষিদের সঙ্গে এবার ফল চাষিরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ঝাড়গ্রামে চারটি বনবিভাগ রয়েছে। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ী, ঝাড়গ্রাম ও খড়গপুর বনবিভাগের সাঁকরাইল ও নয়াগ্রাম এলাকায় গত কয়েক মাসে হাতির হানায় একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পুকুরিয়া গ্ৰামে হাতির হানায় বৃদ্ধের মৃত্যুতে এদিন এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। বিট অফিসার ও বনকর্মীরা এলাকায় এলে গ্ৰামবাসীরা তাদের ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান। মৃত বৃদ্ধের ভাইপো যোগেশ মাহাত বলেন, সন্ধে হলেই গ্ৰামে হাতি হানা দিচ্ছে। আতঙ্কের মধ্যেই ছিলাম। ভোর সাড়ে চারটের সময় কাকা ঘরের দরজা খুলে উঠোনে এসে দাঁড়িয়েছিল। একটা হাতি টেনে নিয়ে গিয়ে শুঁড় দিয়ে আছাড় মারে। ঘটনাস্থলেই কাকার মৃত্যু হয়। দিনাজপুরে কাজ করে সংসার চালাত। কাকার স্ত্রী ও ষোলো বছরের ছেলেটি অসহায় হয়ে পড়ল। আমরা চাই গ্ৰামে সবসময় বনকর্মীদের রাখা হোক। গ্ৰামে আসা হাতিদের জঙ্গলে নিয়ে যাক। তবেই আমরা সুরক্ষিত থাকব। গ্ৰামবাসীদের অভিযোগ, বনবিভাগের তরফে ট্র্যাকারস টিম গঠন করা হয়েছে। জঙ্গলে হাতির খাবারের জন্য ফলের গাছ ও ঘাস লাগানো হচ্ছে। হাতির পালের গতিবিধি জানতে হাতি করিডরে ক্যামেরা বসানো হয়েছে। তারপরেও কেন হাতির হানা থামানো যাচ্ছে না? পুকুরিয়া গ্ৰামের বাসিন্দা পুস্পেন্দু মাহাত বলেন, হাতির হানার ভয়ে রাতে ঘুমাতে পারছি না। স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েরা টিউশনি পড়ে অন্ধকারে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফেরে। রাতে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। হাতির পাল দিনে আম, কাজু, কাঁঠালের বাগানে ঢুকে বসে থাকছে। বাগান থেকে ফল তুলে আনা যাচ্ছে না। জীবন ও জীবিকা বিপদের মুখে পড়ছে। ঝাড়গ্রামের রেঞ্জার খুরশিদ আলম বলেন, ঝাড়গ্রাম রেঞ্জে ১২টি হাতি ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুকুরিয়া রেঞ্জে ৩টি হাতি আছে। হাতিগুলোর উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। বাঁদরভুলা বিট থেকে দুটো হাতি ভোরে আচমকাই ঢুকে পড়ে হামলা চালায়। যার জেরে দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটে। -নিজস্ব চিত্র