


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: পদস্থ আমলাদের বদলি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে এবার অবসরের পর রাজ্য সরকারের দ্বারা পুনরায় নিযুক্ত আধিকারিকদের তথ্য তলব করল নির্বাচন কমিশন। নবান্ন সূত্রে খবর, অবসরের পর পুনরায় নিযুক্ত যে কোনো ক্যাডারের কর্মরতদের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। এমনকি, এখনও রাজ্য সরকারের কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত প্রাক্তন আইএএস এবং আইপিএস অফিসারদের তথ্যও চেয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর। নির্বাচন কমিশনের এমন পদক্ষেপ নজিরবিহীন বলেই জানাচ্ছেন আধিকারিকরা। কারণ, তাঁদের দাবি, ইতিপূর্বে কোনো ভোটের আগে এই ধরনের তথ্য কমিশন চেয়ে পাঠায়নি।
এ বিষয়ে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার বা ‘পার’ দপ্তরকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যত দ্রুত সম্ভব রিপোর্ট পাঠানোর কথা বলা হয়েছে। নির্দেশ মোতাবেক রাজ্যের প্রতিটি দপ্তরকে ইতিমধ্যে এই বার্তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই মতো দপ্তরগুলি তাদের নিজস্ব এবং তাদের অধীনে থাকা ডাইরেক্টরেটগুলিতে ‘এক্সটেনশন’-এ থাকা অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে খবর।
কেন এই তথ্য চাওয়া হয়েছে? তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে নবান্নের পাওয়ার করিডরে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে এই তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে। এই কারণ দেখিয়েই নবান্নকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মরত আধিকারিক-কর্মীদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের (সিইও) দপ্তর। কোন দপ্তরে কতজন এমন আধিকারিক আছেন? তাঁরা বর্তমানে কী কাজ করেন? অবসরের পর কতদিন ধরে তাঁরা কাজ করছেন? এমন একাধিক তথ্য জোগাড়ে ব্যস্ত নবান্ন। সমস্ত দপ্তর এই তথ্য পাঠালে তা একত্রিত করে সিইও অফিসে পাঠানো হবে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই তথ্যের উপর ভিত্তি করে কী পদক্ষেপ করতে চলেছে কমিশন? না কি এই আধিকারিকরা সরাসরি নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো কাজে জড়িত আছেন কি না, শুধুমাত্র তা দেখে নিতেই এই তথ্য চাওয়া হয়েছে রাজ্যের কাছে? কম-বেশি রাজ্য সরকারের প্রতিটি দপ্তরেই অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিকরা কর্মরত আছেন। অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতেই তাঁদের পুনরায় নিযুক্ত করেছে রাজ্য। অভিজ্ঞ আমলাদের মতে, এটা সদ্য শুরু হয়েছে এমনটা নয়। বহুকাল ধরেই অভিজ্ঞদের অবসরের পরেও কিছু বছরের জন্য পুনরায় নিযুক্ত করা হয়। এমনকি একাধিক অভিজ্ঞ আমলাকে উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত করা হয়েছে রাজ্যের তরফে। রাজ্যে অবসরের পর পুনরায় নিযুক্ত আধিকারিকের সংখ্যা কত? একলপ্তে সংখ্যাটা কত, তা বলতে না পারলেও এক কর্তা জানান, অর্থদপ্তরের মতো বড় দপ্তরগুলিতে (ডাইরেক্টরেট মিলিয়ে) এমন শতাধিক আধিকারিক রয়েছেন।