


নিতাই সাহা, সিউড়ি: ইউপিএসসিতে (ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি-২) পরীক্ষায় দেশের সেরা হয়ে তাক লাগালেন বীরভূমের ইমন ঘোষ। দ্বাদশ শ্রেণির গণ্ডি পেরোনোর আগেই ইমনের এই সাফল্য রাজ্যের মুকুটে এক নতুন পালক। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইমনকে ‘রোল মডেল’ আখ্যা দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ইমনের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার পরিবারের সদস্যরাও। তবে, ফ্লাইং অফিসার হিসেবে প্রশিক্ষণ শুরু করার আগে ইমন ব্যস্ত উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষা নিয়ে। তার ফাঁকেই চারদিনের শিক্ষামূলক ভ্রমণে সহপাঠীদের সঙ্গে পুনের ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমিতে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ফোনে তিনি বলছিলেন, ‘বাবাই আমার আদর্শ। বাবাকে দেখেই জীবনের পথ চলা। ছোট থেকেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। বাবাকে দেখেই সেই অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম। বড় হয়ে বায়ুসেনাতে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সেভাবেই প্রস্তুতি চলছিল। এখন আপাতত উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত। সামনেই পরীক্ষা। তারপর এক মাসের ছুটি কাটিয়ে প্রশিক্ষণে যোগ দেব।’
জেলার পাড়ুই থানা এলাকার ডুমাইপুরের ইমনের বসতবাড়ি। ইমনের বাবা উজ্জ্বলকুমার ঘোষ প্রাক্তন সেনাকর্মী। ভারতীয় সেনার হাবিলদার পদে থাকাকালীন ২০২১ সালে তিনি অবসর নিয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই বাবাকে দেখে ইমনের বেড়ে উঠা। পরে পড়াশোনার কারণে ইমনের জীবনের বড় একটা অংশ হস্টেলে কেটেছে। বাবার চাকরির সুবাদে অমৃতসরে একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে ইমনের বুনিয়াদি শিক্ষার শুরু হয়। এরপর উজ্জ্বলবাবু শ্রীনগরে বদলি হন। সেসময় ইমন ও তাঁর মা গার্গী ঘোষ জেলায় ফেরেন। প্রথম শ্রেণি থেকে সিউড়িতে তাঁর পড়াশোনা শুরু হয়। তৃতীয় শ্রেণির পাট চুকিয়ে চলে যায় হরিয়ানায়। সেখানে পড়াশোনা চলাকালীন ষষ্ঠ শ্রেণিতে সৈনিক স্কুলে যোগ দেন। পরে প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে দেরাদুনের রাষ্ট্রীয় ইন্ডিয়ান মিলিটারি কলেজে ভর্তি হন। অষ্টম শ্রেণি থেকে সেখানেই পড়াশোনা চলছে। এবছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেবেন ইমন। তার আগেই ইউপিএসসিতে নজর কাড়া সাফল্য। প্রথম পরীক্ষাতেই স্বপ্ন পূরণের খুব কাছাকাছি চলে এসেছেন। এখন বছর চারেক অপেক্ষা। পুনে ও হায়দরাবাদে পৃথক প্রশিক্ষণ শেষে ভারতীয় বায়ু সেনার পোশাক গায়ে চড়ানোর প্রহর গুনছেন ইমন। ছেলেকে ফ্লাইং অফিসার হিসেবে দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁর বাবা ও মা।
বর্তমানে ইমন শিক্ষামুলক ভ্রমণে পুনেতে। তাঁর বাবা মা গ্রামের বাড়িতে ছেলের ফেরার অপেক্ষায়। ফোন মাধ্যমেই তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী মাসে ইমনের দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষা রয়েছে। পরীক্ষা শেষে জুন মাসে বাড়ি ফেরার কথা। এক মাস পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই থাকবেন। তারপর চার বছরের প্রশিক্ষণ নিতে প্রথমে পুনে ও পরে হয়দরাবাদ যাবেন। ইমনের মা এদিন বলেন, ‘ছেলের সাফল্যে আমরা গর্বিত। আশা করেছিলাম ভালো ফল করবে। তবে এতটাও ভালো ফল হবে সেটা আশা ছিল না।’ ইমনের বাবা বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল। দেশ সেবায় ছেলে কাজ করবে। আমার থেকেও উঁচু পদে নিযুক্ত হবে। আমার ইচ্ছে পূরণ হতে চলেছে।’