


সন্দীপন দত্ত, মালদহ: অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটে জিতেছিলেন। অনেক আশা নিয়ে ভোট দিয়েছিলেন বাসিন্দারা। প্রতিশ্রুতির সিংহভাগই পূরণ করতে পারেননি ইংলিশবাজারের বিধায়ক বিজেপির শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। এমনকি পাঁচ বছরে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৬০ শতাংশ খরচ করতে পারেননি। এমনটাই দাবি তৃণমূল, সিপিএমের।
২০২১ সালে নির্বাচিত বাকি বিধায়কদের মতো শ্রীরূপারও পাওয়ার কথা ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা। সেখানে তিনি পেয়েছেন মাত্র ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১-’২২ এবং ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে বিধায়কদের এলাকা উন্নয়ন খাতে বছরে ৬০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু পরের ২০২৩-’২৪ আর্থিক বছর থেকে বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের বরাদ্দ বেড়ে ৭০ লক্ষ টাকা হয়। সেই হিসেবে ২০২১-’২২ থেকে ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষে তাঁর এলাকা উন্নয়ন খাতে মোট প্রাপ্য ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, শ্রীরূপা ২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পেয়েছেন মাত্র ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা। অন্যান্য বিধায়কদের থেকে তিনি কম পেয়েছেন ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা।
তবে কি বিজেপি বিধায়ক হিসেবে তাঁকে বঞ্চনা করা হয়েছে? এই যুক্তিও ধোপে টেকে না। কারণ মালদহ জেলার হবিবপুর কেন্দ্রের আরেক বিজেপি বিধায়ক জোয়েল মুর্মু পাঁচ বছরে এলাকা উন্নয়ন খাতে পুরো প্রাপ্য পেয়েছেন। মালদহ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক গোপাল চন্দ্র সাহাও বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের সম্পূর্ণ টাকা পেয়েছেন।
ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, তাহলে ইংলিশবাজার কেন্দ্রের বিধায়ক কেন এত কম টাকা পেলেন? প্রশাসন সূত্রে খবর, আসলে প্রথম থেকেই ইংলিশবাজারের বিধায়কের কাজের গতি মন্থর। তিনি তাঁর প্রথম দিকের প্রাপ্ত অর্থ ঠিকমতো খরচ করতে পারেননি। নিয়মানুযায়ী আগের আর্থিক বছরের অন্তত ৩০ শতাংশ টাকা খরচ করতে হয় এবং প্রথম বর্ষের টাকা খরচের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দিলে তবেই পরের অর্থবর্ষের বরাদ্দ দেওয়া হয়।
শুধু তাই নয়, ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের শেষে মুহূর্তে এসে কয়েক লক্ষ টাকার প্রকল্প জমা দিয়েছেন বলে খবর প্রশাসন সূত্রে। প্রশাসনের এক কর্তা জানান, নভেম্বর থেকে সবাই এসআইআরের কাজে ব্যস্ত। একেবারে শেষ মুহূর্তে তাঁর দেওয়া প্রকল্প হাতে পেলেও তা বাস্তবায়িত করা খুব একটা সহজ কথা নয়।
এনিয়ে বিজেপিকে খোঁচা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের জেলা মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, কাজ করবেন কী! বিধায়ক তো এলাকাতেই ছিলেন না। সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, দলের কর্মীরাই তাঁকে সুখ, দুঃখে পাশে পাননি।
এবিষয়ে বিধায়ক শ্রীরূপাকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। এসএমএস করা হলেও উত্তর দেননি।
বিজেপি বিধায়কের অর্থ খরচ না করতে পারা প্রসঙ্গে কটাক্ষ করেছেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক কৌশিক মিশ্রও। তাঁর মন্তব্য, নরেন্দ্র মোদিও জুমলা দেন, তাঁর দলের বিধায়কও একই কায়দায় চলছেন।
বিজেপির দক্ষিণ মালদহ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের সাফাই, প্রচুর বাধা দিয়েছে তৃণমূল সরকার। বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে কাজের জন্য প্রকল্প দিলেও প্রশাসনিক স্তরে ফেলে রাখা হত।
• শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী।