


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশে এ বছর প্রচুর পরিমাণে চাল-গম উৎপাদিত হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় উৎপাদন এবার অনেকটাই বেশি। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্যই বলছে একথা। কিন্তু সাধারণ মানুষ তার কোনও সুফল সেই অর্থে পাচ্ছেই না। সাধারণ মানুষের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই দু’টি খাদ্যশস্য ন্যায্য দামে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের তেমন সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না। আর খোলা বাজারে চাল, আটা-ময়দা প্রভৃতির দাম বেড়েই চলেছে। সাধারণ মানের প্রতি কেজি চাল, আটার দামও ৪০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে।
গত বছরের নভেম্বরে রীতিমতো ঢাক-ঢোল পিটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ভারত ব্র্যান্ড নাম দিয়ে তুলনামূলক কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিক্রির সূচনা করেছিল। ৩০ টাকা কেজি দরে চাল এবং ৩৪ টাকা কেজি দরে আটা দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করা হয়। রেশন দোকান থেকেই ভারত ব্র্যান্ডের সামগ্রী বিক্রি করা হবে বলেও ঘোষণা হয়েছিল। রেশন ডিলারদের সংগঠনও ভারত ব্র্যান্ডের সামগ্রী বিক্রি করতে উদ্যোগী হয়েছিল। তাদের তরফে আগাম টাকা জমা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের বেশিরভাগ রাজ্যের রেশন দোকানে সেই খাদ্যশস্য পৌঁছয়নি। এই প্রকল্পে মজুত খাদ্যশস্যের পরিমাণ কমে গিয়েছে—এই কারণ দেখিয়ে সামগ্রী সরবরাহ করা হয়নি বলে দাবি ডিলারদের সর্বভারতীয় সংগঠনের। নতুন আর্থিক বছরে খাদ্যশস্য সরবরাহ শুরু হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়িত করার কোনও উদ্যোগ নজরে আসেনি। রাজ্য সরকারগুলিকে ওপেন সেল স্কিমে গম বিক্রি ফের শুরু করার কোনও ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি। ডিলারদের সংগঠন ওপেন সেল স্কিমে চাল ও গম কেনার প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রককে দিলেও কোনও সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু।
দেশ থেকে চাল রপ্তানির উপর বিধিনিষেধ গত বছর লোকসভা ভোটের পর তুলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটের আগে খোলা বাজারে দাম কমাতে প্রথমেই সাধারণ চালের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় কেন্দ্র। ভোট মিটে যাওয়ার পর কয়েক মাস ২০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক চাপানো হলেও পরে তাও তুলে নেওয়া হয়। ফলে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ সাধারণ চাল বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হতে শুরু করে। এর প্রভাবেই খোলা বাজারে দাম বাড়তে শুরু করে। এপ্রিল মাসের ৩০ তারিখ কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক ফের সাধারণ চালের উপর ফের ২০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক বসানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করে। তার কয়েক ঘন্টার মধ্যে সেই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করে চাল রপ্তানি ফের শুল্ক-মুক্ত করে দেওয়া হয়। আগের বিজ্ঞপ্তিটি ভুলবশত জারি হয়েছিল বলে কেন্দ্রীয় সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, ২০২৪-২৫ খরিফ মরশুমে দেশে প্রায় ১২ কোটি টন চাল উৎপাদন হবে। গত খরিফ মরশুমে যা ছিল সাড়ে ১১ কোটি টনের কম। সরকারি উদ্যোগে এবার এপ্রিল পর্যন্ত ২ কোটি ৫৩ লক্ষ টন গম কেনা হয়েছে। গত বার সম্পূর্ণ মরশুমে প্রায় ২ কোটি টন গম কেনা হয়েছিল। এবার সরকারি উদ্যোগে গম কেনার পরিমাণ ৩ কোটি টন পার হবে বলে আশাবাদী কেন্দ্র।