


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুধু এক বছরেই নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় আড়াই লক্ষ ভারতীয় মহিলা! যত দিন যাচ্ছে, ব্রেস্ট ক্যানসার হয়ে উঠছে উদ্বেগের আর এক নাম। দুশ্চিন্তার বিষয় হল, যখন রোগটি ধরা পড়ছে, ততদিনে ক্যানসার স্টেজ তিন বা চার পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এহেন উৎকণ্ঠার অসুখের চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকরী ‘মহার্ঘ্য’ এক ওষুধ এবার যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গের বিনামূল্যের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায়।
সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোর্স ও স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, ওষুধটির নাম ট্রাস্টুজুমাব এমটানসিন ১০০ এমজি। রাজ্যের ক্যানসার চিকিৎসক মহল জানাচ্ছে, ব্রেস্ট ক্যানসারের চিকিৎসায় অত্যন্ত জরুরি এই ওষুধ। যথেষ্ট দামিও বটে। প্রতি ১০০ এমজির দাম প্রায় ২৫ হাজার টাকা। তিন সপ্তাহ অন্তর কমবেশি ২০০ মিগ্রা ওষুধ প্রয়োজন হয় প্রাপ্তবয়স্ক রোগিণীদের। সেই হিসেবে বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক-একজনের বছরে পুরো কোর্স সম্পূর্ণ করতেই খরচ পড়ে ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা। যা এবার রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলিতে মিলবে সম্পূর্ণ নিখরচায়। প্রসঙ্গত, ব্রেস্ট ও সার্ভাইক্যাল—দু’ধরনের ক্যানসার মহিলাদের প্রধান ক্যানসার।
দেখা গিয়েছে, প্রতি চারজন ভারতীয় ক্যানসার আক্রান্ত মহিলার মধ্যে একজন না একজনের ব্রেস্ট ক্যানসার হচ্ছে। চিন্তার বিষয় হল, প্রতি ২৮ থেকে ২৯ জন ভারতীয় নারীর মধ্যে একজনের জীবদ্দশায় এই ক্যানসার হচ্ছে। যতদিন যাচ্ছে, আরও ঘাতক চেহারা নিচ্ছে প্রধানত মহিলাদের বিপদে ফেলা ক্যানসারটি। ২০২১ সালে ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দেশের প্রায় ৯২ হাজার মহিলার মৃত্যু হয়। গত বছর এই সংখ্যা বেড়ে ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে বলেই আশঙ্কা।
রাজ্যের সরকারি ওষুধের তালিকায় ব্রেস্ট ক্যানসারের এই মহামূল্যবান ওষুধটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কী কী লাভ হল? চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেটাস্টেটিক ক্যানসার বা যে ক্যানসার মূল আক্রান্ত অঙ্গ থেকে চারপাশের অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে, এমন মারাত্মক কর্কট রোগেও কার্যকর নয়া ওষুধটি। ব্রেস্ট ক্যানসারে সার্জারির পরও যদি শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্যানসারের চিহ্ন বিদ্যমান থাকে, তখন কাজে আসে ট্রাস্টুজমাব এমটানসিন। এছাড়াও স্তন ক্যানসারে এর ব্যবহার বহুবিধ। নামকরা ক্যানসার চিকিৎসক ডাঃ জয়দীপ ঘোষ বলেন, ‘ট্রাস্টুজুমাব জরুরি ওষুধ। দামও অনেক। সরকারি পরিষেবায় যুক্ত হলে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবেন।’