


নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: জেলা পরিষদে সভাধিপতি নির্বাচন ঘিরে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা মালদহে। ভোটাভুটির কয়েক ঘণ্টা আগে বিজেপির বিরোধী শিবিরে থাকা তৃণমূলের চার জেলা পরিষদ সদস্যকে পুলিশ গ্রেপ্তার করায় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে মঙ্গলবার। বিরোধীদের অভিযোগ, বিজেপিকে সভাধিপতির চেয়ার দখলের সুযোগ করে দিতেই পরিকল্পিত ভাবে বিরোধী শিবিরের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যদিও পুলিশের তরফে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তারের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
৪৩ আসন বিশিষ্ট মালদহ জেলা পরিষদে বর্তমানে তৃণমূলের ৩৪ জন সদস্য রয়েছেন। কংগ্রেসের পাঁচ এবং বিজেপির চারজন সদস্য। কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছেন তৃণমূলের ১৮ জন জেলা পরিষদ সদস্য। অন্যদিকে বিজেপির সঙ্গে রয়েছেন তৃণমূলের ১৬ জন সদস্য। কার্যত তৃণমূলের অন্দরে সভাধিপতি নির্বাচন ঘিরে কার্যত দু’টি শিবির তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি বিরোধী শিবিরের তৃণমূলের ১৮ জন সদস্যের মধ্যে চারজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করায় সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে সভাধিপতি নির্বাচনে সংখ্যার হিসাব বিজেপির পক্ষে যেতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
দক্ষিণ মালদহের কংগ্রেস সাংসদ ঈশা খান চৌধুরীর অভিযোগ, 'চারজন সদস্য নিয়ে বিজেপি যাতে সভাপতির চেয়ার দখল করতে পারে, সেকারণে মিথ্যে মামলা দিয়ে আমাদের সঙ্গে থাকা জেলা পরিষদ সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।'
উল্লেখ্য, আজ মালদহ জেলা পরিষদে সভাধিপতি নির্বাচনের পর আগামী কাল ইংলিশবাজার পুরসভায় চেয়ারম্যান নির্বাচন। পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা ইংলিশবাজারের বিজেপি বিধায়ক অম্লান ভাদুড়িই চেয়ারম্যান হতে চলেছেন বলে সূত্রের খবর।