


ভারতীয় পোশাক তো বটেই, ইন্দো ওয়েস্টার্ন ড্রেসের সঙ্গেও দারুণ মানায় এই ধরনের গয়না। উজ্জ্বল রং আর আধুনিক নকশায় তৈরি এই ধরনের গয়নাই এখন জনপ্রিয়।
কথায় বলে, বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। উৎসবের সাজে পোশাকের পাশাপাশি জুতসই গয়নাও দরকার। কেমন তার ধরন? গয়নার কারিগর শ্রাবণী দাস জানালেন, বাঙালির উৎসবকে কয়েকটা ভাগে ভাগ করা হয়। সাজগোজও সেই মতোই করেন বঙ্গনারী। প্রতি বছরই বসন্তোৎসব দিয়ে শুরু হয় বঙ্গনারীর আনুষ্ঠানিক সাজের পালা। বসন্তে প্রকৃতির সঙ্গেই মনকেও রাঙিয়ে নিতে চাই রঙিন গয়না। এই ধরনের গয়নার বাজার মাত করেছে কাপড় আর ক্রুশ। আজ গয়নার সেই ধরন বিষয়ে বিস্তারিত জানাব আপনাদের।
বসন্তে ফুল গাঁথল
বসন্ত মানেই পলাশ আর শিমুলের মেলা। এমন মরশুমে সাজের ধরনটাই অন্য। উজ্জ্বল রঙের শাড়ি, কপালে বড় টিপ, চুলে এলো খোঁপায় গোঁজা লাল পলাশের মালা। এমন দিনে চাই কাপড়ের গয়না। শাড়ির সঙ্গে একটু বড় পেনডেন্ট বা দুল বেশি মানানসই, জানালেন শ্রাবণী। ফলে কানের দুলও একটু বড় মাপের হওয়াই বাঞ্ছনীয়। ঝোলা দুল এই সাজে উপযুক্ত। কাপড় দিয়ে হাতে বোনা বালার সঙ্গে কাঠের বিডস লাগানো থাকলে সবচেয়ে ভালো খুলবে। সেই ক্ষেত্রে লকেট বা দুল বা বালা যাই হোক না কেন, তা যেন একরঙা কাপড় দিয়ে তৈরি হয়, বললেন শ্রাবণী। নাহলে ঔজ্জ্বল্য একটু কমে যায়। হলুদ-সবুজের কম্বিনেশনে যদি শাড়ি পরেন তাহলে সিঁদুরে লাল, কমলা বা গেরুয়া রঙের হার আর দুল, তার সঙ্গে মানাবে।
নববর্ষে নব হর্ষে
বাংলা নববর্ষে গরম একেবারে জাঁকিয়ে পড়ে। তাই বলে কি সাজগোজ হবে না? অবশ্যই হবে। এবং মরশুমের সঙ্গে খাপ খাইয়ে একটু হালকা সাজই ভালো। হ্যান্ডলুম, ব্লক প্রিন্ট, লিনেন ইত্যাদি শাড়িই এই দিনে আরামদায়ক। তাই গয়নার ধরন হবে ফেব্রিকের। এক্ষেত্রে একটু ছোট কর্ডে লাগানো বড় পেনডেন্ট পরতে পারেন। কানে পাশা বা বরফি স্টাইলের ফেব্রিকের দুল। কম্বিনেশন কাপড়ে প্রিন্ট বা বাটিক বা বাঁধনির ফেব্রিকের গয়না নতুন বছরের সাজকে জমকালো করে তুলবে।
আবার পঁচিশে বৈশাখের অনুষ্ঠানে আবৃত্তি বা গান ইত্যাদি অনুষ্ঠানে অংশ নিলে পরুন ক্রুশে বোনা নেকলেস। এই নেকলেসে ক্রুশের সঙ্গে কাঠ বা কাচের বিডসও ব্যবহার করতে পারেন। কানে বিডস আর ক্রুশের কম্বিনেশনে তৈরি লম্বা ঝোলা দুল। অনেকে আবার ঝুমকোর তলায় ক্রুশের ফুল লাগিয়েও দুল বানান। অনেকে ছোট পুঁতির সঙ্গে কম্বিনেশন করেও ক্রুশের নেকলেস তৈরি করেন। এমন নেকলেসের ডিজাইনের সঙ্গে ম্যাচ করে কানের দুলও বোনা হয়।
ইন্দো-ওয়েস্টার্ন স্টাইল
ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাক, র্যাপার স্কার্ট, লং ফ্রকের সঙ্গেও এই গয়না ভালো মানায়, বললেন জুয়েলারি ডিজাইনার সুপর্ণা কর। সেক্ষেত্রে একটু লম্বা ঝুলের হার, সঙ্গে তুলনায় ছোট দুল বেশি মানানসই। অনেকেই আবার র্যাপারের প্রিন্টের সঙ্গে ম্যাচ করে রং বাছেন এই ধরনের গয়না বানাতে। ক্রুশের একটু ফাঁকা ডিজাইন ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গে সবচেয়ে খাপ খায়। অনেক সময় এমন হয় যে লং ড্রেস বা টপের উপর একটা ক্রুশে বোনা জ্যাকেট থাকে। সেই নকশার সঙ্গে ম্যাচ করে ক্রুশের লম্বা কর্ডের সঙ্গে একইরকম পেনডেন্ট বোনা হয়। কানে ফ্লোরাল দুল। সেই দুলের মাঝখানে বসানো হয় স্টোন বিডস।
লং ড্রেস ও স্কার্টের সঙ্গে কাপড়ের গয়নার চেয়েও ক্রুশের গয়না বেশি ভালো লাগে, বললেন সুপর্ণা। অনেকে কাপড় আর ক্রুশ কম্বিনেশন করেও গয়না কিনতে চান। সেক্ষেত্রে মালায় কর্ড দিয়ে কার বানিয়ে সিল্ক ফেব্রিকের পেনডেন্ট লাগালে তা একেবারেই অফবিট নকশা তৈরি করবে।
চেহারা অনুযায়ী গয়না
চেহারা ও বয়স অনুযায়ী সাজের ধরন বদলানো উচিত বলেই মনে করেন শ্রাবণী ও সুপর্ণা। তাঁদের মতে, বয়স ও চেহারার উপর সাজের একটু তারতম্য ঘটলে ভালো। যেমন ভারী চেহারা হলে একটু বড় লকেট, কানের দুল ইত্যাদি বেশি ভালো লাগে। আবার লম্বা রোগা চেহারায় হালকা নকশার গয়নাই বেশি মানানসই। গলা যদি খুব লম্বা হয় তাহলে বড় কর্ড দিয়ে ঝোলানো পেনডেন্ট যেমন মানায়, তেমনই কাপড়ের চোকারও ভালো লাগে। অনেকেই মোটা কর্ড লাগাতে চান পেনডেন্টের সঙ্গে। সেক্ষেত্রে ওই কর্ডের সঙ্গে মানানসই দুলও পরতে পারেন। কাপড়ের লকেট বা দুলে আজকাল সিল্কের ফেব্রিকও খুবই ট্রেন্ডিং। তাহলে প্রিন্টেড বা বাটিক সিল্ক দিয়ে গয়না বানান।
টিনএজারদের জন্য ছোট লকেট সঙ্গে অ্যাডজাস্টেবল কর্ড লাগানো, কানে হালকা দুল খুবই উপযুক্ত। ক্রুশের কাজ করা লম্বা হারও তারা পছন্দ করে। এগুলো সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে যায়। তাছাড়া এগুলো দেখতেও খুবই রংচঙে। ফলে অল্প বয়সিদের সাজ আরও উজ্জ্বল করে তোলে। অনেক সময় ক্রুশের বুননের মধ্যে রঙিন পুঁতি ভরে দেওয়া হয়। তখন তা অনায়াসেই বৈশাখী বিয়েবাড়ির সাজ সম্পূর্ণ করতে পারে।
পরে আরাম
এই গয়নাগুলো খুবই আরামদায়ক। আমাদের গ্রীষ্মপ্রধান দেশে আবহাওয়ায় আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় ঘামও অতিরিক্ত হয়। তখনই মনে পড়ে কাপড়ের কর্ড দেওয়া গয়নার কথা। এই গয়নাগুলো দেখতে সুন্দর, হালকা আর গরমে পরেও আরাম। এত গুণ যখন একই গয়নার রয়েছে তখন তা পছন্দ না করে উপায়ই বা কী? তাই ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কাপড়, ক্রুশের গয়না। যা পরলে মনেই হয় না অতিরিক্ত কিছু পরে রয়েছেন। ফলে সারাদিন পরে থাকতেও আপত্তি নেই। তাহলে আর দেরি কেন? কিনে ফেলুন আপনার পছন্দের কাপড় বা ক্রুশের গয়না।
কমলিনী চক্রবর্তী