


সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: একসময় বিশ্বকর্মা পুজোর আগে রাত-দিন এক করে প্রতিমা গড়তেন দুর্গাপুরের মৃৎশিল্পীরা। কারখানা থেকে একের পর এক বায়না আসত। পুজোর কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই ব্যস্ত হয়ে উঠত কুমোরপাড়া। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবিতেই যেন ভাটার টান। কাঁচামালের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে কমেছে প্রতিমার বরাতও। শিল্পাঞ্চলের একের পর এক কারখানার দরজায় তালা পড়ার প্রভাবও পড়ছে বিশ্বকর্মা প্রতিমার বাজারে এমনই দাবি মৃৎশিল্পীদের। কল্পতরু নগর কলোনির প্রতিমা শিল্পী বামন পাল বলেন, আগে বিশ্বকর্মা পুজোয় ২০০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত প্রতিমা তৈরি করেছি। কোনো কোনো বছর ১৫০-১৬০টিও হয়েছে। এবার অর্ডার কমে যাওয়ায় মাত্র ৭০টি প্রতিমা তৈরি করছি। আগে দুর্গাপুরের বিভিন্ন কারখানা থেকে ৫০-১০০টি পর্যন্ত বায়না আসত। এখন ২০-৩০টির বেশি মিলছে না। তাঁর কথায়, মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি-সহ প্রতিমা তৈরির একাধিক উপকরণের দাম গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেই অনুপাতে বাড়েনি প্রতিমার দাম। তার উপর বহু পুরানো শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কমেছে কারখানাকেন্দ্রিক বিশ্বকর্মা পুজোর বায়না। স্থানীয় বাসিন্দা অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় স্মৃতিচারণ করে বলেন, আশির দশকে দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চলের চেহারাই ছিল অন্যরকম। কারখানাকে কেন্দ্র করে মানুষের কর্মসংস্থান ছিল, পুজোর জাঁকজমকও ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন বহু কারখানা বন্ধ। শিল্পের সেই পুরানো পরিবেশ ফেরাতে হবে। নতুন করে কর্মসংস্থান তৈরি না হলে দুর্গাপুরের এই সংস্কৃতিও ধাক্কা খাবে।
তবে বিশ্বকর্মা পুজোর জৌলুস কমেছে বলে মানতে নারাজ বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল। সুমন্তবাবুর দাবি, বর্তমানে পুজো আরও বড়ো আকারেই হচ্ছে। বন্ধ কারখানা খুললেই চাহিদা বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নতুন প্রযুক্তি, নতুন শিল্প এবং নতুন উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর।
দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, বন্ধ কারখানাগুলি আমরা পুনরুজ্জীবিত করছি। পাশাপাশি নতুন বিনিয়োগের সুযোগও আসছে। যে কারখানাগুলিতে বিশ্বকর্মা পুজোয় আগে গেট খুলত না, এখন সেখানেও গেট খোলা থাকবে। লাইট, প্যান্ডেল, ঢাকের আওয়াজেই বোঝা যায় বিশ্বকর্মা পুজো কতটা বেড়েছে। আগামী দিনে বহুমুখী কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ, দুইই সমান তালে হবে। বন্ধ রাষ্ট্রায়াত্ত কারখানাগুলি খোলার জন্যও সরকারি স্তরে কথাবার্তা চলছে। দুর্গাপুরে বন্ধ হয়ে যাওয়া এমএএমসি কারখানা।-নিজস্ব চিত্র