


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে শুরু করে কন্যাশ্রী প্রকল্পের হাত ধরে স্বনির্ভর হয়েছেন রাজ্যের কয়েক কোটি মহিলা। এজন্য কমেছে স্কুলছুটের সংখ্যাও। এই সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি বাল্যবিবাহের সঙ্গে লড়াই চালাতে বিশেষ পোর্টালের মাধ্যমে নজরদারিও চালাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। আবার মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযান জারি রেখেছে পুলিস প্রশাসন। কিন্তু কথায় আছে, দুরাত্মার ছলের অভাব হয় না। তেমনই রাজ্য সরকারের কড়া নজরদারি এড়িয়ে নাবালিকা পাচার চালাতেও নিত্যনতুন পথ ধরছে অপরাধীরা। যেমন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের নজরে এসেছে, ভুয়ো আধার কার্ডের আড়ালে নাবালিকা পাচারের কিছু ঘটনা।
আজ শনিবার আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সেই উপলক্ষ্যে শুক্রবার বিধাননগরের শুভান্নে মহিলাদের অধিকার ও ক্ষমতায়ন নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে নারী ও শিশু বিকাশ এবং সমাজ কল্যাণ দপ্তর। ছিলেন দপ্তরের মন্ত্রী শশী পাঁজা, প্রধান সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ এবং অন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এই অনুষ্ঠানে ভাষণ প্রসঙ্গে রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন তুলিকা দাস জানান, অনেক জেলাতেই দেখা যাচ্ছে যে একজন নাবালিকা উদ্ধার হওয়ার পর কোনও একজন ব্যক্তি ভুয়ো আধার কার্ড নিয়ে গিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে মেয়েটি ‘প্রাপ্তবয়স্ক’! এই প্রবণতা মেয়েদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মেয়েটি বাস্তবে যে ‘নাবালিকাই’ তা প্রমাণ করা কঠিন হচ্ছে। আবার, ভুয়ো আধার কার্ডের ভিত্তিতে সেই নাবালিকাকে নিজেদের ‘মেয়ে‘ড়’ কিংবা ‘বউ’ পরিচয়ে তারা নিয়েও যেতে চাইছে। তবে পুলিস প্রশাসনের সাহায্য এমন ক্ষেত্রে মেয়েটিকেই রক্ষা করা হয়। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের যাবতীয় পদক্ষেপও করে প্রশাসন।
এই বিষয়ে মন্ত্রী শশী পাঁজা জানান, নাবালিকা পাচারের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, যে মুহূর্তে মেয়েটিকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখানো যায়, সেই মুহূর্তে তার উপর চাপ সৃষ্টি করা হয় সে যেন দাবি করে, তার নিজের ইচ্ছাতেই সে যাচ্ছে। এই কারণেই ভুল শংসাপত্র তৈরি করার মতো অপরাধ সংগঠিত হয়। এর বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই এবং কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মানুষের মধ্যেও এই নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কথাও বলেন মন্ত্রী।
এছাড়া এদিন নারী সুরক্ষায় পুলিসের ভূমিকা এবং এই কাজের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরাও তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা এদিন তুলে ধরেন। অন্যদিকে, এদিন ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।