


নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: তালডাংরায় জালনোট কাণ্ডে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। ধৃতদের নাম কেয়ামত আলি বায়েন ও শামিম খান। বছর পঁচিশের ওই দুই যুবকের বাড়ি তালডাংরা থানার পাঁচমুড়া অঞ্চলের লালবাঁধ গ্রামে। ওই এলাকা থেকেই নোট পাচারের মূল পান্ডা দুলাল হাসান মল্লিক ও গোলাম খানকে পুলিস এর আগে গ্রেপ্তার করেছিল। বাঁকুড়ার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (অপারেশন) মকসুদ হাসান বলেন, কেয়ামতদের হেফাজত থেকে নোট ছাপানোর একটি প্রিন্টার ও চার হাজার টাকার জাল নোট বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, হেফাজতে নিয়ে দুলাল ও গোলামকে জেরা করার সময় আমরা কেয়ামতদের নাম জানতে পারি। তারাও জাল নোট কারবারের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে দুলাল জেরা চলাকালীন স্বীকার করে। তবে মূল পান্ডা গ্রেপ্তার হওয়ার পর কেয়ামত ও শামিম গা ঢাকা দিয়েছিল। রবিবার আমরা দু’জনের নাগাল পাই। ওইদিন গোপন ডেরা থেকে প্রথমে দু’জনকে আটক ও পরে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকেও আমরা বেশকিছু তথ্য পেয়েছি। সেইসঙ্গে একজনের নামও জানা গিয়েছে। এখন তার খোঁজ চলছে।
উল্লেখ্য, দিন চারেক আগে তালডাংরা বাজারের একটি ফলের দোকানে জালনোট গছাতে গিয়ে দুলাল ও গোলাম পুলিসের জালে ধরা পড়ে। তাদের কাছ থেকে পুলিস বেশকিছু ৫০০ টাকার জালনোট বাজেয়াপ্ত করে। ঘটনার তদন্তে নেমে দুঁদে পুলিস কর্তাদের চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়। দুলাল ইউটিউবে হিন্দি সিরিজ দেখে জালনোট ছাপানোর কৌশল রপ্ত করেছিল। তারপর প্রিন্টারে নোট ছাপাতে শুরু করে। তারজন্য উন্নত মানের কাগজও সে জোগাড় করেছিল। ধীরে ধীরে সে গোলাম সহ বাকিদের সঙ্গে নেয়। মোট পাঁচ-ছ’জনের একটি গ্যাং তৈরি হয়। তারাই বাঁকুড়া জেলাজুড়ে জাল ৫০০ টাকার নোট ছড়াতে শুরু করে।
পুলিস জানিয়েছে, সাধারণত মালদহ, মুর্শিদাবাদের মতো বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলায় বড় নোট লেনদেনের সময় স্থানীয়রা সজাগ থাকেন। কিন্তু, আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে অনেক দূরে জঙ্গলমহলের জেলা বাঁকুড়ায় জাল নোটের তেমন রমরমা নেই। ফলে একবার উল্টেপাল্টে দেখেই বাসিন্দারা ৫০০ টাকার নোট নিয়ে নেন। পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা নোটদাতাকে চাহিদামতো সামগ্রী ও খুচোর মিটিয়ে দেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতেই জেলাজুড়ে ধৃতরা জাল নোটের কারবার ফেঁদে বসেছিল। গত এক বছর ধরে তারা ওই কাজ করেছে। তদন্তকারী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকমাস ধরে পুলিসের চোখে ধুলো দিয়ে কারবার চালানোর ফলে ধৃতরা সম্প্রতি কিছুটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছিল। বাঁকুড়ার পাশাপাশি তারা ভিনজেলাতেও কারবার চালানোর চেষ্টা করছিল। তারজন্য অন্যান্য জেলায় পেশাদার পাচারকারী নিয়োগের জন্য দুলাল ও গোলাম উদ্যোগ নেয়। কেয়ামত ও শামিম তাদের সেই কাজে সাহায্য করছিল। জালনোট কাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে দু’-একজন এরইমধ্যে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ঘুরে এসেছে বলেও পুলিস সন্দেহ করছে। কারণ ওই দুই জেলাতেই ছক কষে পাচারকারী নিয়োগ করা হয়। তাদের ‘প্যাডলার’ বলে। বর্তমানে পুলিসকে ফাঁকি দিতে মহিলা ও শিশুদেরও সেখানে প্যাডলার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। সেইভাবেই বাঁকুড়া আশপাশের জেলায় দুলাল ঘুঁটি সাজাচ্ছিল বলে পুলিস মনে করছে।